আপনার শিশু কি মানসিকভাবে সুস্থ

599 Views 0 Comment
শিশুর মানসিক সুস্থতা

প্রতিটি শিশুই ঈশ্বরের দান ফুলের মতো পবিত্র। সেই সমস্ত নিষ্পাপ, পবিত্র শিশুকে জন্মানোর পর থেকে ঘোড়-দৌড়ের প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেয় তাদের বাবা-মায়েরা।

সারা পৃথিবীতে যত বাচ্চা রয়েছে শিশু মনস্তত্ত্ববিদ বা শিক্ষাবিদদের মতে তাদের পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।

  • অসুস্থ, অস্বাভাবিক : এই শ্রেণীর বাচ্চাদের লক্ষণগুলি হল জন্ম থেকেই কোনো শারীরিক বা মানসিক অথবা দু’রকমেরই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে পৃথিবীর বুকে এসেছে। এই শ্রেণীতে পড়ে সেরিব্রাল পালসি, সিস্টিক ফাইব্রেসিয়ম, ডাউনস সিনড্রোম, অ্যানিমিয়া বা হৃদযন্ত্রের কোনো জন্মগত গন্ডগোল। এগুলোর প্রত্যেকটি কিন্তু জিনগত অসুখ। এই শ্রেণির বাচ্চাদের বেশি পড়াশোনা বা খেলাধুলায় চাপ দিলে শারীরিক ও মানসিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে এগিয়ে যায়। এদের মানসিক শান্তি, খোলামেলা পরিবেশ, বাবা-মা এবং আত্মীয়-স্বজনের ভালোবাসা একমাত্র বেঁচে থাকার মূল চাবিকাঠি।
  • আধাসুস্থ, আধা-স্বাভাবিক : এই শ্রেণীর বাচ্চাদের সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধীদের পর্যায়ভুক্ত করা উচিত নয়। অথচ এরা পুরোপুরিই সুস্থ বা স্বাভাবিকও নয়। এরা অতি চঞ্চল (  ADD-অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার বা ADHD—অ্যাটেনশন ডেভিসিজ হাই পারঅ্যাক্টিভ ডিসঅর্ডার) অথবা অতি মন্থর (হাইপারঅ্যাক্টিভ স্লো লার্নার) বা স্বল্প বুদ্ধি (আই.কিউ বা বুদ্ধ্যংক ৮০-এর নীচে)। এই শ্রেণীর বাচ্চারা জন্ম থেকেই মনের অসুখে ভুগতে থাকে। ঘন ঘন আঙুল চোষে, বিছানায় প্রসাব করে, প্রচন্ড আতষ্ক অথবা মানসিক অবসাদে ভোগে। রাত্রে দুঃস্বপ্ন দেখে হঠাৎ হঠাৎ ঘূম ভেঙে কঁকিয়ে কেঁদে ওঠে।

এই শ্রেণীর বাচ্চাদের কোনো না কোনো সুপ্ত প্রতিভা বিরাজ করে। সেজন্য ঠিকমতো কাউন্সেলিং করে সেই প্রতিভার ওপর গুরুত্ব দিলে বাচ্চার ভবিষ্যৎ উজ্জল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন ছবি আঁকা, গান করা, খেলাধুলা বা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো।

  •  সুস্থ, স্বাভাবিক সাধারণ : এই শ্রেণীর বাচ্চাদের সংখ্যাই বেশি। ইংরেজিতে যাকে ‘মিডিওকার’ বলে। এই শ্রেণির বাচ্চাদের লক্ষণগুলি হল—জীবনটাকে সাধারণভাবে কাটায়। পড়াশুনো ভালো করে বা রেজাল্ট ভালো করে। খেলাধুলার প্রতি ভালো ঝোঁক থাকে। ভদ্র, স্বভাবচরিত্র পরিমার্জিত হয়। অল্প জিনিসে সন্তুষ্ট থাকে।
  • অসাধারণ মেধা বা প্রতিভা সম্পন্ন : এই শ্রেণীর বাচ্চাদের লক্ষণগুলি হল –কোনো ব্যাপারে অসাধারণ পটুতা, দক্ষতা বা পারদর্শিতা। কোনো জিনিসকে চট করে রপ্ত করে নেবার ক্ষমতা। কোনো কিছু দেখে সেটাকে হুবুহ নকল করে ফেলার ক্ষমতা। খেলাধুলা , সাঁতার, ড্রাইভিং প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করার ক্ষমতা। মেধা বা প্রতিভার সাক্ষর পরিষ্কারভাবে প্রকট।
  • অনন্য সাধারণ : পটুতা, মেধা বা প্রতিভা একেবারে তুঙ্গে। এদের ধারেকাছে আসা অসাধারণদের পক্ষেও সম্ভব নয়। বাস্তবে মানব হলেও এদের মধ্যে একটা অভূতপূর্ব শক্তি (পাওয়ার) থাকে। যে শক্তির দ্বারা সমস্ত বিশ্বের নিকট সমাদৃত হয়।

  • সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন
0 Comments

Leave a Comment