কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে যোগের জাদু

979 Views 0 Comment

কোলেস্টেরল বাড়ছে। বাড়ছে ট্রাইগ্লিসারাইড। আর আপনার অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে নানান রোগ। কোলেস্টেরলের ভূমিকা শুধুই নেতিবাচক নয়। সমস্ত রকম স্টেরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে কোলেস্টেরল। পিত্ত লবণ তৈরিতে এর ভূমিক্ গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন-ডি তৈরিতেও সাহায্য করে কোলেস্টেরল। কাজেই কোলেস্টেরল তৈরি না হলে মানুষ হারাবে তার প্রজনন ক্ষমতা, হজমে হবে মানুষ হারাবে তার প্রজনন ক্ষমতা. হজমে হবে গন্ডগোল এবং দাঁত ও হাড় হবে ভঙ্গুর।

কোলেস্টেরলের প্রকারভেদ

সাধারণত দু’ ধরনের হয়—

  • এইচ.এল.ডি—উচ্চ ঘনত্বের কোলেস্টেরল যা সাধারণত উদ্ভিজ্জ তেলে পাওয়া যায়। রক্তনালীতে জমা হয় এবং এল.ডি.এল-কে লিভারে বহন করে নিয়ে যায়। ইলিশ মাছের তেলে এই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে।
  • এল.ডি.এল-কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল। প্রাণীজ চর্বিতে পাওয়া যায়। এই ধরনের কোলেস্টেরল রক্তনালীর গায়ে জমা হয়ে হৃদপিন্ডের রোগ ঘটায়। এজন্য এদের খারাপ কোলেস্টেরল বলে।

কোলেস্টেরল মাত্রা

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ১০০-২০০ মিলিগ্রাম। এল.ডি.এল-এর মাত্রা ৩৫-৪৫ মিলিগ্রাম প্রতি ১০০ মিলি রক্তে। মাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালীর গায়ে জমে গিয়ে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস নামক রোগ ঘটায়, যার পরিণতি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক।

নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সম্ভব

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হল রক্তে এর সরবরাহ ভারসাম্য বজায় রাখা। এইচ.ডি.এল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে এল.ডি.এল-এর মাত্রা কমানো। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়—

  • চর্বিজাতীয় খাদ্য কম খেতে হবে। অধিক তন্তুযুক্ত খাবার খেতে হবে অর্থাৎ আঁশযুক্ত খাবার। যেমন কাচা ফল, সুবজ সবজি, আটার রুটি এবং অন্যান্য শস্য। দানাজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখতে হবে। পাঁঠার মাংস, ডিম, ফাস্ট ফুড খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। ছোট মাছ, মুরগির মংস খাওয়া যাবে। পটেটো চিপস, পিৎজা বাদ দিতে হবে। দই, সয়াবিন, রসুন, পেঁয়াজ, আদা, গাজর, কলা, তরমুজ নিশ্চিন্তে খাওয়া যাবে। এইসব খাদ্যে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। চা পান করুন নিয়মিত। দিনে তিন-চার কাপ লিকার চা খেলে অ্যাথোরোস্ক্লেরোসিসের সম্ভবনা কমে।

কোলেস্টেরল কমানোর উপায়

  • ওজন কমাতে হবে। শরীরের ওজন বাড়তে দেবেন না। নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। সপ্তাহে তিনদিন করে দশ মিনিট করে ব্যায়াম করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা পনেরো থেকে কুড়ি ভাগ কমার সম্ভবনা।
  • ধূমপান, পানমশলা, মদ্যপান বন্ধ করতেই হবে।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। নিয়মিত অ্যারোবিক্স অভ্যাসে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন হাটুঁন।
  • রসুন—ব্লাডপ্রেসার, ব্লাড সুগার, লিপিড প্রোফাইল দু’তিন মাস অন্তর পরীক্ষা করান। দৈনিক দশ থেকে পনেরো মিনিট প্রাণ খুলে হাসুন।

কী কী আসন করবেন

মেডিটেশন, পদ্মাসনে ব্রিদিং, বজ্রাসন, পবনমুক্তাসন, উথিত শবাসন, ধনুরাসন, শবাসন, শীতলী প্রাণায়াম।

  • মনঃসংযোগ বা মেডিটেশন: যেকোনো ধ্যানাসনে বসতে হবে (পদ্মাসন বা বজ্রাসন) চোখ বন্ধ করে মনটাকে স্থির করতে হবে যাতে বাইরের কোনো আওয়াজ কানের মধ্যে প্রবেশ না করে। এইবার দশ থেকে শূন্য পর্যন্ত সংখ্যাগুলোকে দুটো ভ্রু’র মাঝে রেখে মনে করতে হবে। শরীর একেবারে হালকা করে নিতে হবে। এবং অনেকক্ষণ ধরে শ্বাস নিতে হবে এবং অনেকক্ষণ ধরে ছাড়তে হবে।
  • বজ্রাসন: হাঁটু ভেঙে গোড়ালির ওপর নিতম্ব রেখে সোজা হয়ে বসে দুটো জানুর ওপর রাখতে হবে। এরপর শিরদাঁড়া সোজা করে দম নেওয়া-ছাড়া করতে হবে।
  • পবনমুক্তাসন: চিৎ হয়ে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ডান পা হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে দু’ হাত দিয়ে বুকের কাছে এনে চেপে ধরতে হবে। এবং আট-দশবার দম নেওয়া-ছাড়া করার পর আবার পা সোজা করে নিতে হবে। একইভাবে বাঁ-পা এবং তারপর দু’-পা একসঙ্গে করতে হবে।
  • পদ্মাসন ব্রিদিং: প্রথমে বাঁ-জানুর ওপর ডান পা এবং ডান-জানুর ওপর বাঁ-পা রেখে এমনভাবে বসতে হবে যেন মেরুদন্ড, মাথা ও ঘাড় সোজা থাকে। হাত দু’টো হাঁটুতে রাখতে হবে। এইভাবে পদ্মাসনে বসে প্রথমে মন ন্থির করতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে গভীলভাবে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে হবে। আসলে ডিপ ব্রিদিং একটি গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্রিয়া।
  • উথিত পদ্মাসন: চিৎ হয়ে শুয়ে পা দু’টো সোজা করে কোমর থেকে পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি উচ্চতায় তুলতে হবে এবং হাত দু’টো পাশে থাকবে। হাতের চেটো মাটিতে লেগে থাকবে।
  • ধনুরাসন: মেঝেতে উপুর হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। এবার পা দু’টো হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে পিঠের কাছে আনতে হবে। এবং দু’হাত দিয়ে পায়ের গোছ ভালোভাবে ধরতে হবে। হাঁটু সাধ্যমতো দশ থেকে বারো ইঞ্চি ফাঁক করুন, এতে শুধুমাত্র তলপেট ভূমি সংলগ্ন হবে। এরপর শরীরটাকে পিছনের দিকে ধনুকের মতো করে বাঁকান।
  • শবাসন: চিৎ বা উপুর হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে হাত ও পা দু’টো লম্বা করে ছড়িয়ে দিয়ে হাত দু’টো শরীরের দু’ পাশে দেহ সংলগ্ন করে দিন। এরপর সমস্ত শরীরকে শিথিল করে শবের মতো শুয়ে থাকতে হবে। শ্বাস ও প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে।
  • শীতরী প্রাণায়াম: শীতরী প্রাণায়াম পদ্মাসনে বসে করাই ভালো। পদ্মাসনে বসে প্রথমে শরীর শিথিল করতে হবে। এরপর মুখ খুব সামান্য ফাঁক করে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে এই শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময় কোনোরকম আওয়াজ না হয়, অর্থাৎ শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া খুব মসৃণভাবে হবে।

ব্যায়াম

প্রাতঃভ্রমন, সাঁতার কাটা মেদযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে খুব উপকারী। যাদের কাজে শারীরিক পরিশ্রম কম, তাদের পেক্ষে দৈনিক এক ঘন্টা হাঁটা দরকার।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

0 Comments

Leave a Comment