গোড়ালির ব্যথায় আকুপাংচার অব্যর্থ

235 Views 0 Comment

আপনি কি গোড়ালির ব্যথায় কষ্ট পাছেন । ঘুম থেকে ওঠার পর বা বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলে কি গোড়ালি এবং পায়ের পাতায় যন্ত্রণা হয়?  আপনার ওজন কি আপনার বয়স এবং উচ্চতার তুলনায় বেশি ? যদি প্রশ্নগুলোর উত্তর হ্যা হয় , তবে আপনি যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে বা হতে যাচ্ছেন সে রোগের নাম প্লান্টার ফাসাইটিস ।

পায়ের গোড়ালির মুল অস্থি হল ক্যালকেনিয়াম । এটির সঙ্গে যুক্ত থাকে প্লান্টার ফাসানমিক শক্ত চাদবের মতে একটি অংশ । যে কোনো ভাবেই এই ফাসর প্রদাহ হল এই রোগের প্রধান লক্ষণ । হাঁটা, দাড়ানো, দৌড়ানো প্রভৃতি ক্রমশ কঠিন হয়ে দাড়ায় । সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাটিতে পা ফেললেই তীব্র ব্যথা হয় এটি একটি প্রধান লক্ষণ । ব্যথার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং কাজকর্ম ব্যাহত হয় । অনেক সময়ই এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা পরবর্তীকালে হাটুর ব্যথায় কষ্ট পান । বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই রোগে বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যায় । কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিয়েও ব্যথার উপশম হয় না ।কিছু ক্ষেত্রে গোড়ালি সামান্য ফুলে যায় ,হাতে চাপ দিলে ব্যথাও লাগে ।

বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষায় বিশেষ কিছুই বোঝা যায় না । কিছু ক্ষেত্রে এক্স-রে পরীক্ষায় গোড়ালির ক্যালকেনিয়াম হাড়ের নীচের দিকে কাটা বা টিয়াপাখির ঠোটের মতো স্পার তৈরি হয় ।

প্রসঙ্গত গোড়ালি ব্যথা আরো কয়েকটি রোগে হতে পারে । যেমন টারসাল টানেল সিনড্রোম, ফ্যাট প্যাড নেক্রোসিস, গোড়ালির হাড়ের স্ট্রেস ফ্যাকচার প্রভৃতি । এছাড়া রাইটার্স সিনড্রোম এবং অ্যাঙ্কাইলোসিং স্পন্ডিলাইটিসেও গোড়ালি ব্যথা হয়। কিন্তু এসকল ক্ষেত্রে রোগের নিজস্ব লক্ষণ দ্বারাই রোগগুলোকে চিহ্নিত করা যায় ।

প্লান্টার ফাসাইটিসের কারণ

• দেহের ওজন অস্বাভাবিক রকম বেশি হলে গোড়ালি ব্যথা হতে পারে ।

• দৌড়ানোবা লং জাম্প-এর ক্ষেত্রে বারবার গোড়ালিতে আঘাত লাগে যা প্লান্টার ফাসাইটিসের অন্যতম কারণ ।

• চটি বা জুতো ঠিক মাপমতো না হলে, হাই হিল জুতো পরলে বা অন্য কারণেও গোড়ালির ওপর চাপ ফেললে এই রোগটি হতে পারে ।

• গর্ভবতী মহিলাদের হরমোন পরিবর্তন ঘটে, যা কিছু ক্ষেত্রে এই রোগের সৃষ্টি করতে সাহায্য করে ।

• অনেক সময়ই কোনো রকম কারণ ছাড়াই প্লান্টার ফাসাইটিস হতে দেখা যায় ।

চিকিৎসা

প্রচলিত চিকিৎসা অর্থাৎ ব্যথানাশক ওষুধ বা স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন দিয়ে উপকার পাননি এরকম বহু রোগীই আকুপাংচার চিকিৎসা করাতে আসেন এবং অনেকেই মাত্র পাচ-ছ’টি সিটিং চিকিৎসার পরই উল্লেখযোগ্য উপকার পান । আকুপাংচার চিকিৎসায় অতি সূক্ষ্ম দু’-তিনটি সুচ ব্যবহার করা হয় । উপযুক্তভাবে পরিশোধিত সুচগুলো ব্যথাহীনভাবে আক্রান্ত গোড়ালির দিকের নির্দিষ্ট দু-তিনটি বিন্দুতে ফোটানো হয় এবং মিনিট ১৫-২০ রেখে দেওয়া হয় । এসময়ও কোনো ব্যথা লাগে না । প্রয়োজন অনুসারে সুচগুলোর মাধ্যমে মুর বৈদ্যুতিক উত্তেজনা আক্রান্ত গোড়ালিতে পাঠানো হয় , যা খুবই আরামদায়ক । অনেক ক্ষেত্রে মক্স চুরুটের ( এক প্রকার ভেষজ ) সাহায্যে সহনশীল মাত্রার গরম সেঁক দেওয়া হয়।

মনে রাখতে হবে

• শরীরে ওজন বেশি হলে প্রথমেই তাকে স্বাভাবিক ভরে আনতে হবে ।

• বাইরে তো বটেই এমনকী ঘরেও খালি পায়ে হাটা চলবে না । নরম চটি ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো ।

•  রাস্তাঘাটে হাঁটার সময় নবম জুতো বা চটি পরতে হবে । এবং সেটি হতে হবে পায়ের পক্ষে সর্বদিক দিয়ে স্বড়িদায়ক ।

• প্রয়োজনে জুতোর সাথে প্যাডবা ট্রাপিংও ব্যবহার করা যেতে পারে ।

• দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়ানো এই রোগের পক্ষে ক্ষতিকারক । তাই এ দু ‘ টো করা চলবে না ।

• ব্যথা কমতে থাকলে নির্দিষ্ট কিছু স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করতে হবে, যা পায়ের গোড়ালির পক্ষে উপকারি ।

শেষের কথা

রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই সময় নষ্ট না করে চিকিৎসা শুরু করা উচিত । বেশি সময় অপচয় করলে যে কোনো রোগের মতো প্লান্টার । ফাসাইটিসও জটিল হয়ে যেতে পারে । সঠিক সময়ে আকুপাংচর চিকিৎসা শুরু হলে ১০-২০টি সিটিং-এর মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব ।

0 Comments

Leave a Comment