ঘরোয়া উপায়েই কাত করে দিন কোলেস্টেরলকে

1378 Views 0 Comment
ঘরোয়া উপায়েই কাত করে দিন কোলেস্টেরলকে

কোলেস্টেরল বড় অদ্ভুত। আমাদের শরীরের বন্ধুও বটে, আবার শুত্রুও বটে। শরীরের অভ্যন্তরস্থ কার্যপ্রণালী স্বাভাবিক এবং নিয়মিত রাখতে কোলেস্টেরল এক অসম্ভব জরুরি উপাদান। কিন্তু মানুষের দেহের রক্তে তার মাত্র প্রয়োজনের থেকে বেশি বড়ে গেলে, সেই কোলেস্টেরলই তখন নিঃশব্দ বিপদ হয়ে উঠতে পারে। যার ফলস্বরূপ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো দুর্ঘটনা আসতে পারে অকস্মাৎ।

কত ধরনের কোলেস্টেরল

শরীরের প্রতিটি কোষে কোলেস্টেরলের উপস্থিতি দেখা যায়। তার খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজও রয়েছে। শরীর নিজেই একে তৈরি করে নিতে পারে, অনেক সময় আবার কোনো খাবার থেকেও সরাসরি কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে নেওয়া যায়। তবে রক্তের থেকে কোলেস্টেরল কিন্তু ভারি। এর গঠনটা অনেকটা মোমের মতো, তৈলাক্ত। রক্তের মতো জলীয় উপাদান এর নেই। ফলে এটা রক্তের সাথে মিশতে পারে না। কোলেস্টেরলের পরিমাণ শরীরে বেড়ে গেলে রক্তের লাইপোপ্রোটিনের মাধ্যমে সারা দেহের অভ্যন্তরে এটা বাহিত হতে পারে। কোনোমতেই রক্তে বা জলে মিলেমিশে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। কোলেস্টেরল মোটামুটি তিন ধরনের হতে পারে। একটির নাম লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এল.ডি.এল । এটি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে এল.ডি.এল –এর প্রভাবে। আর্টারি ব্লকেজ, হৃদযন্ত্রের রক্তের সংবহন বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, ফলত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পক্ষাঘাত, কিডনি, লিভারের সমস্যা প্রভৃতি দেখা দিতে পারে । তবে হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এইচ.ডি.এল-এর মাধ্যমে বাহিত কোলেস্টেরল কিন্তু শরীরের উপকারী বন্ধু। এটি শরীরের অব্যবহৃত কোলেস্টেরলকে শরীরের কোষ থেকে তাড়িয়ে নিয়ে ফের লিভারে ফেরত আনে। এর ফলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক থাকতে পারে।

ট্রাইগ্লিসারাইড মূলত ফ্যাটের মতো অবস্থান করে। এটি থাকে রক্তের প্লাজমায়। খাদ্যের শর্করা জাতীয় অংশ থেকে ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি হয়। কিংবা অন্য কোনো শক্তিবর্ধক উপাদান থেকেও তৈরি হতে পারে। খাদ্যের অবসিবথত শর্করার যে অংশ সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কোনো কাজে লাগে না, বরং ফ্যাট সেলে জমা থাকে, তা থেকেই ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি হয়। যখন শরীরের এনার্জি  দরকার, কিন্তু কোনো খাদ্যবস্তু নেই, তখন ফ্যাট সেল থেকে ট্রাইগ্লিসারাইড প্রয়োজনীয় এনার্জির যোগান দেয় শরীরকে। এই গোটা প্রক্রিয়াটা হরমোনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ স্বাভাবিক চেয়ে বেশি হলে হৃদযন্ত্রের সমূহ ক্ষতির আশষ্কা। হার্ট অ্যাটাকের ভয়ও থেকে যায়।

ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস)-র হিসেব অনুযায়ী, রক্তে স্বাভাবিক অবস্থায় কোলেস্টেরল মাত্রা হবে লিটারে ৩.৬ —৭.৮ এম.এম.ও.এল। তার চেয়ে বেশি হলে শরীরের বিপদ অনিবার্য।

কোলেস্টেরলের কাজ

কোলেস্টেরল শরীরের কী ক্ষতি করতে পারে, তা জানার আগে বরং জেনে নেওয়া যাক কোলেস্টেরল শরীরের কী কী উপকার করে।

  • কোলেস্টেরল শরীর অভ্যন্তরস্থ কোষের গঠনে এবং রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কোষের দেওয়াল তৈরি করে কোলেস্টেরল।
  • কোলেস্টেরল খাদ্য  হজমের জন্য অন্ত্রে বিশেষ ধরনের অ্যাসিড তৈরি করে কোলেস্টেরল।
  • কোলেস্টেরল শরীরকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে।
  • শরীরের অ্যান্ড্রোজেন আর ইস্ট্রোজেন হরমোন তৈরিতে বিশেষ সাহায্য করে কোলেস্টেরল।
  • অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে যেসব হরমোন নিঃসৃত হয়, সে সবের উৎপাদনেও কোলেস্টেরলের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।
  • স্নায়ুর তন্তু রক্ষা করে কোলেস্টেরল।

কোলেস্টেরল বাড়ে কেন

শরীরে কোলেস্টেরলের বাড় বাড়ন্ত কেন ঘটে, তার অনেকগুলো কারণ রয়েছে।

  • খাদ্যভাস: বেশ কিছু খাবারে স্বাভাবিকভাবেই কোলেস্টেরল থাকে। যেমন ডিম বা সামুদ্রিক খাবার ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো খুব বেশি খেলেই যে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাবেই, এমনটা নয় কিন্তু। তুলনামূলকভাবে বরং অন্য খাবারের বিপদ অনেক বেশি। যে সব খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ চর্বি রয়েছে, সেসব খাবার থেকে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সম্ভবনা সমধিক। যেমন খাসির মাংস, শক্ত চিজ, প্যাটিস, পেস্ট্রি, থাকে, এইচ.ডি.এল-এর পরিমাণ কমে যায়। ফলে তাদের আশষ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তুলনায় শারীরিক ওজন যাদের স্বাভাবিক, তাদের রক্তে এল.ডি.এল-এর পরিমাণ বাড়ার সম্ভবনা প্রায় থাকে না।
  • ধূমপান ও মদ্যপান: অত্যধিক বেশিমাত্রায় তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন করলে বা মদ্যপান করলে রক্তে এল.ডি.এল-এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশষ্কা থাকে। তার থেকে হৃদযন্ত্রের বা শরীরের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তবে অনিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে মদ্যপান কোলেস্টেরলের পক্ষে একেবারেই ক্ষতিকর নয়।

কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ

রক্তে এল.ডি.এল কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় হাইপারকোলেস্টেরলেমিয়া। এর কতগগুলো সাদারণ লক্ষণ রয়েছে। যেমন—

  • বুকে মাঝে মাঝে যন্ত্রণা হতে থাকে। আসলে করোনারি আর্টারি অধিক সরু হয়ে যাওয়াই এই যন্ত্রণার কারণ।
  • এক্সারসাইজ করার সময় পায়ে ব্যথা হয়। তার কারণ আর্টারি, যা সারা দেহের রক্ত জোগান দেয়, তার ক্রমাগত কৃশতা।
  • রক্ত জমাট বেঁধে যেতে থাকে। ব্লাড ভেসেল ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকে। এর ফলে স্ট্রোক বা মিনি স্ট্রোক হতে পারে।
  • ত্বকে মোটা হলুদ ছোপ ধরতে থাকে। বিশেষ করে চোখের নীচে এই ছোপ পরিষ্কার বোঝা যায়। এই ছোপগুলো আসলে কোলেস্টেরল জমা হওয়ার লক্ষণ।

ঘরোয় উপায়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

চিন্তার কারণ খুব একটা নেই কিন্তু। ঘরোয়া উপায়েও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। আসুন, দেখা যাক।

  • ভিটামিন ই- : ভিটামিন-ই হৃদযন্ত্রের আর্টারি ব্লকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে নিয়তিভাবে ভিটামিন-ই খেলে শরীরে এল.ডি.এল-এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত থাকে, এইচ.ডি.এল-এর পরিমাণ বাড়ে।আন্তজার্তিক মাপ অনুযায়ী ৪০০ ইউনিট ভিটামিন-ই নিয়মিতভাবে করলে কোলেস্টেরল থেকে বিপদের ভয় থাকে না।
  • ভিটামিন-সি: এই ভিটামিনও শরীরে এল.ডি. এল-এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত করে। নিয়মিতভাবে ভিটামিন-সি গ্রহণ করলেও শরীর বিপদমুক্ত থাকতে পারে। কমলালেবু, পাতিলেবু ইত্যাদি থেকে মিলতে পারে ভিটামিন-সি।
  • রসুন: স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিয়মিতভাবে পাঁচ-সাত কোয়া রসুন খেলে শরীরে এল.ডি. এল-এর পরিমাণ আয়ত্বের মধ্যেই থাকে। হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। এমনিতেই এর ওষধি গুণ যথেষ্ট। যদি কেউ এর গন্ধ সহ্য করতে না পারে, তাহলে রসুন-ক্যাপসুল বা ট্যাবলেটও খেতে পারে।
  • আঙুর : আঙুরের ত্বক কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ অন্যতম ইপাদান। আঙুরের মধ্যে এমন যৌগ রয়েছে, যা শরীরের বদ কোলেস্টেরল বা এল.ডি. এল-কে আয়ত্তে রাখতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে এইচ.ডি. এল স্তরকেও পর্যাপ্ত থাকতে সাহায্য করে। দেখা গেছে, রোজ আঙুর খাওয়া অভ্যাস করলে মাস দু’য়েকের মধ্যে কোলেস্টেরল বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়।
  • বিন : বিনের মধ্যে বদ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের উপাদান রয়েছে। দেখা গেছে, দু’কাপের মতো বিন প্রতিদিন খেতে পারলে এল.ডি. এল কমে যায় প্রায় ২২ শতাংশ। রোজ বিন খেলে কোলেস্টেরলের এইচ.ডি. এল স্তরও শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত থাকে। ফলে শরীর এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ, সতেজ হয়।
  • ধনে বীজ: রোজ দু’কাপ জলে এক টেবিল-চামচ ধনে বীজ ফুটিয়ে একবার করে খেতে পারলে কোলেস্টেরলের এল. ডি.এল স্তর শরীর আর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
  • সিনামন টি: রোজ এক কাপ করে সিনামন টি খাওয়া অভ্যাস করতে পারেন। শরীরের এল.ডি. এল স্তর আপনার আয়ত্তে থাকবে।
  • মাছের তেলের ক্যাপসুল: এ ধরনের ক্যাপসুল ওমেগা-থ্রি থাকে। এটা আসলে ফ্যাটি অ্যাসিড। এর প্রভাবে শরীরের এইচ.ডি. এল পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আসে এল.ডি. এল। রাতে শুতে যাওয়ার আগে একটা বা দু’টো এই ক্যাপসুল খেলে ট্রাইগ্লিসারাইড আর এল.ডি. এল দু’টোই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • পেঁয়াজ: রসুনের মতো পেঁয়াজেও শরীরের বদ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। এইচ.ডি.এল-এর জোগান বাড়ায় শরীর। এক গ্লাস জলে কয়েক ফোঁটা পেঁয়াজের রস ফেলে প্রতিদিন খেতে পারলে কোলেস্টেরলে উপকার হয় নিশ্চিতভাবেই। এছাড়া শরীরে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয়, হৃদযন্ত্রের সুস্থ থাকে, অনিদ্রারও উপশম হয়।
  • অলিভ অয়েল: রান্নার অন্য কোনো তেলের বদলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ থাকে। সবুজ স্যালাড কয়েখ ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন খেলেও দারাণ কাজ হয়। হার্ট খুব ভালো থাকে।
  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: যে সব খাবারে অত্যধিক পরিমাণে ফাইবার থাকে, সে সব খাবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ দেয়। তাছাড়া এই খাবার পেটের যে কোনো সমস্যাতেও খুব ভালো উপকার দেয়। এর বাইরে পাতাওয়ালা শাকসবজিও শরীরের বদ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
  • সূর্যমুখী বীজ: এই বীজের মধ্যে রয়েছে লিনোলিয়েইক অ্যাসিড। কোলেস্টেরলের এল.ডি.এল স্তরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এই বীজ। এই সূর্যমুখী বীজের তেলে রান্না করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনের উপকার হয়, হৃদযন্ত্রের সুস্থ থাকে। সোয়াবিনের তেলেও এই একই উপকার হয়।
  • জল: পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খেলে শুধুই যে শরীরের এল.ডি.এল নিয়ন্ত্রণে থাকে তাই নয়, বরং শরীরের টুক্সিক এবং অবাঞ্চিত জমা বর্জ্যও শরীর থেকে নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
  • আপেল জুস: আপেলের ওষধি ক্ষমতা দারুন। শরীরের অন্যান্য নানা উপসর্গ সামলানোর সঙ্গে সঙ্গে কোলেস্টেরলের এল.ডি. এল স্তর নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা অপরিসীম। দশ থেকে বারো টেবিল-চামচ আপেল জ্যুসের সঙ্গে পাঁচ-ছ’চামচ আঙুর জ্যুস থেকে সিষ্কাশিত ভিনিগার মিশিয়ে দিনে দুবার করে খেতে পারলে কোলেস্টেরলের কোনো সমস্যা থাকবে না।
  • মেথি বীজ: সারা রাত ধরে এক-দু’চামচ মেথিবীজ ভালো করে ভিজিয়ে রাখুন। এবার ওই মিশ্রণটি ভালো করে ছেঁকে পরের দিন সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হবে, রক্ত চলাচল মসৃণ হবে, পেটের সমস্যাও দূর হবে।
  • গাজর: গাজরের লাল অংশটা যত পারেন, খাবেন। এর উপকার খুব। কোলেস্টেরলে এল.ডি.এল স্তর নিয়ন্ত্রণ করে। দিনে দু’টো করে গাজরের লাল অংশ খাওয়ার অভ্যেস করলে চার থেকে ছ’সপ্তাহ পরেই উপকার বুঝতে পারবেন। অন্তত কুড়ি শতাংশ মতো এল.ডি.এল-এর বাড়বাড়ন্ত আটকে দেবে এই গাজর।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য উপায়

জগিং, ব্যায়াম ইত্যাদি অভ্যাস রাখতে হয় নিয়মিত। এর ফলে কোলেস্টেরলের এল.ডি.এল স্তর নিয়ন্ত্রণে থাকে। কারণ এই ব্যায়ামের ফলে শরীরের বাড়তি ক্যালোরি ঝরে যায়। ব্যায়ামের ফলে বাড়তি ওজন কমে। রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়া শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেরও কাজকর্ম স্বাভাবিক হয়। এছাড়া বিন্যাস, কুন্ডলিনীর মতো যোগাসন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সঙ্গে সঙ্গে এইচ.ডি. এল স্তরকেও পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িয়ে তোলে।

প্রাতরাশ বাদ দেবেন না। বরং নিয়মিত পুষ্টিকর প্রাতরাশে শরীর অনেক সুস্থ থাকে। বাড়তি কোলেস্টেরলের পরিমাণকে কমিয়ে ফেলতে পারে পুষ্টিকর নিয়মিত প্রাতরাশ। তবে প্রাতরাশে এমন খাবার রাখবেন, যাতে ফাইবার থাকে বেশি পরিমাণে।

একটা কথা মনে রাখতেই হবে। ওজনটা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ওজন খুব বেশি হয়ে গেলে কিন্তু বদ কোলেস্টেরলের স্তর বাড়তে পারে। আরও একটা কথা। তেলযুক্ত বা নুনযুক্ত খাবার কম খান। বেকারির খাবার যেমন কুকিজ, ক্র্যাকার ইত্যাদি খাবার থেকে দূরে থাকেন।

যতটা সম্ভব সক্রিয় থাকুন। এর ফলে ট্রাইগ্লিসারাইড আর এল.ডি. এল স্তর নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

এই সক্রিয় থাকতে গেলে রোজ ব্যায়াস করতে শুরু করুন এখনই। যদি অভ্যেস না থাকে, তাহলে একট একটু করে আরম্ভ করুন। অল্প করে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম। তারপর সামর্থ অনুযায়ী বাড়াবেন।

খাবারের মধ্যে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আর সবুজ শাকসবজি, গাজরের লাল অংশ বেশি করে খান। ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। বেশিরভাগ ফাস্ট ফুডে অত্যধিক চর্বি রয়েছে। সেটা কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।

নিয়মিত ধূমপান বা অত্যধিক পরিমাণে মদ্যপান কোলেস্টেরলের পক্ষে ক্ষতিকর। এ দু’টো থেকে ধূরে থাকা অভ্যেস করুন।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

0 Comments

Leave a Comment