চিকিৎসায় যত দেরি হবে ততই বিপদ বাড়বে লিভার ক্যান্সারের

121 Views 0 Comment

জানেন কি , লিভারেরই এমন বেশ কিছু অসুখ আছে যা আমাদের লিভারকে পুরোপুরি নষ্ট  করে দিতে পারে ? এটা কি জানে , লিভারের অসুখ এমনিতে খুব সাধারণ সমস্যা এবং যদিও তা নানা ধরনের হতে পারে ? তাহলে শুনি , ভারতে প্রতি বছর প্রতি পাঁচ জনে একজন লিভারের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে এবং এই মুহূর্তে । আমাদের দেশের প্রায় ২.৫ লাখ মানুষ এ ধানের অসুখে আক্রান্ত । আর লিভার সংক্রমণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যে বা যারা পালন করে তারা হল ভাইরাস । যেমন হেপাটাইটিস – এ , হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস – সি । কিন্তু এসবের সঙ্গে ফ্যাটি লিভার বা সিরোসিস দীর্ঘদিন থাকলে এর থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে যথেষ্ট পরিমাণে । এই অসুখ পরিচিত হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা নামে । পৃথিবীতে ক্যানসারের কারণে যত মানুষের মৃত্যু হয় , তার মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছে লিভার ক্যানসার । আর এই মৃত্যুর জন্য প্রধানত দায়ী দেরিতে রোগ ধরা পড়া । একথাও ঠিক,  ভারতে এখনও প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ নির্ণয়ের মতো সুযোগ – সুবিধা অনেক জায়গাতেই নেই । আর মৃত্যুর প্রধান কারণ হল দেরিতে বা একেবারেই রোগ ধরা না পড়া । কাজেই সতর্ক থাকুন প্রথম থেকেই ।

এছাড়া আমাদের দেশে মাত্র ২০ % রোগীর এই অসুখ ডায়াগনোসিস হয় প্রথম অবস্থায় । বাকি ৮০ % – এর রোগ ধরা পড়ে একেবারে শেষ পর্যায়ে । ফলে চিকিৎসা করেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না । একথাও ঠিক , লিভারের অসুখের অন্যান্য কারণের সঙ্গে আছে ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন সমস্যা । যেমন ওবেসিটি বা মেদবহুলতা , ডায়াবেটিস , হাইপারটেনশন , অতিরিক্ত ধূমপান , মদ্যপান ইত্যাদি । যদিও লিভারের অসুখের চিকিৎসা কেমন হবে সে সম্পর্কে ইউরোপ , আমেরিকা , জাপানে নির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই । তাই এখানে সাধারণভাবে আমেরিকা কিংবা ইউরোপের গাইডলাইন ফলো করা হয় । চিকিৎসকরা রোগীকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখে নেন সমস্যাটা কী ধরনের । সেই অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা ঠিক করেন । প্রথম অবস্থায় ধরা পড়লে পুরোপুরি নিরাময়ের জন্য অপারেশন কিংবা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হয় । একেবারে প্রিম্যাচিওর অবস্থা লিভার ক্যানসার ধরা পড়লে পার্সিয়াল হেপটেকটমি বা লিভারের কিছুটা বাদ দেওয়া হয় । এরপর রোগী সারা জীবন সুস্থ থাকতে পারেন । আবার রোগীর শারীরিক অবস্থা যদি অপারেশন বা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের উপযোগী হয় তাহলে অ্যাবলেশন বা এমবোলাইজেশন করা হয় । এতে লিভারের টিউমার নষ্ট করে দেওয়া হয় । এটা করা যায় যদি টিউমারের আকার খুব ছোট হয় তাহলেই । ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজির মাধ্যমে এই টিউমার বের না করে ভিতরেই নষ্ট করা হয় । এতে রোগী অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকেন ।

অসুখ দেরিতে ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য লিভার অ্যাঞ্জিগ্রাফির মাধ্যমে টিউমার বের করে আনা হয় । এছাড়া কখনো কখনো ট্রান্সআর্টরিয়াল কেমমাএমবোলাইজেশনের সাহায্যে খুব ছোট অপারেশন করে লিভার টিউমারের আর্টারি বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে রক্ত সঞ্চালন না হয় । এর সঙ্গে প্রয়োজনমতো ওষুধও দেওয়া হয় ।

 তবে এক্ষেত্রেও যেটা বেশি জরুরি তা হল সচেতনতা । প্রথম থেকে সচেতন হলে বিশেষ করে যাদের ঝুঁকি বেশি , অর্থাৎ ক্রনিক হেপাটাইটিস – বি অথবাসি – এর রোগীকিংবানন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ আছে , তারা প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করালে অনেক বড় বিপদ এড়াতে পারেন । কলকাতার বেশ কয়েকটি জায়গায় লিভার স্ক্রিনিংয়েরব্যবস্থাআছে । নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের জন্য অসুখ বেশি জটিল হতে পারে না। অপারেশনের পর রোগীকে নিয়মিত স্ক্রিনিং করা হয় । কাজেই লিভারের অসুখ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে । আর অসুখ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না ।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন 

0 Comments

Leave a Comment