জরায়ুর মুখে ক্যান্সার? নিশ্চিন্ত থাকুন নিয়মিত স্ক্রিনেংয়ে

181 Views 0 Comment

সে অসুখ দেশে বেশিমাত্রায় মানুষকে আক্রমণ করে , সেই অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আগেই । যদি রোগ নির্ধারণ করা যায় , তাহলে মানুষকে বহু কষ্টকর মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে । এই নীতিকে সামনে রেখে স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ।

ভারতীয় মহিলাদের ক্ষেত্রে , বিশেষত গ্রামীণ ক্ষেত্রে ক্যানসারের সর্বাধিক কারণ জরায়ু মুখের ক্যানসার । জরায়ু মুখ বা সার্ভিক্স হল জরায়ুর নীচের অংশ , যেটা জননদ্বার ( ভ্যাজাইনা ) দিয়ে পরীক্ষা করা যায় । গবেষণায় জানা গেছে , সার্ভিক্স স্ক্রিনিং করে ক্যানসারের হার এবং মৃত্যুর হার সমস্ত পৃথিবীতেই কমানো সম্ভব হয়েছে ।

সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার , প্রায় ১০০ % । জরায়ু মুখের ক্যানসার শুরু হয় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস নামক একটি ভাইরাসের আক্রমণের কারণে । দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার যার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি । বিশেষজ্ঞদের মতে , হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচ.পি.ভি-১৬)সবচেয়ে খারাপ ধরনের ভাইরাস । এছাড়া এইচ.পি.ভি-১৮,  এইচ.পি.ভি-৩১,  এইচ.পি.ভি-৩৩,  এইচ.পি.ভি-৪৫ ইত্যাদি সমগ্রোত্রীয় । কিন্তু এদের ক্যানসার তৈরির ক্ষমতা কম । এই ভাইরাস । কোনো দম্পতির মধ্যে যৌনসংসর্গের ফলে ছড়ায় এবং এটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্রথম যৌনসংসর্গের পর । এর মধ্যে ৯০ শতাংশ সংক্রমণ নিজে থেকেই সেরে যায় । কিন্তু ১০ শতাংশ মহিলার মধ্যে প্রাক্‌-ক্যানসারের লক্ষণ দেখা যায় । বিশেষত যাদের শরীরে এই ভাইরাস ২-৩ বছর থেকে যায় । এবং এই মহিলাদের ২০-৩০%-এর মধ্যে পরবর্তী ৫ বছরে জরায়ু । মুখে প্রাক – ক্যানসার ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় । আর ৩০ বছর পর ক্যানসার দেখা যায় । তাই একজন মহিলা ভাইরাস আক্রমণের ৪০-৪৫ বছর পর সাধারণত ক্যানসারগ্রস্ত হয় । এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা করলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব । একেই স্ক্রিনিং বা প্রাক নিরূপণ বলা হয় । অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগেই রোগ সারাও ।

পদ্ধতি

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বা গাইনোকোলজিস্ট জরায়ু মুখ থেকে একটা চামচের মতো প্যাচুলা দিয়ে খানিকটা রস এবং কোষ নিয়ে পরীক্ষা করেন এবং ব্রাশ দিয়ে জরায়ু মুখের কোষ তরল কেমিক্যালে নেওয়া হয় । এটা অবশ্য কোনও ক্যানসার বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে করতে হবে । যেকোনো ল্যাবরেটরির রিপোর্ট গ্রাহ্য নয় , কারণ অধিকাংশ ল্যাবরেটরির প্যাথলজিস্টরা সাধারণভাবে এই কাজ করেন না । এই পরীক্ষায় সাইটোলজি বা কোষ পরীক্ষা এবং এইচ.পি.ভি টেস্টিং — এই দুটি অংশ আছে ।

যা জানা দরকার

• ২১ বছরের নীচে কোনাে পরীক্ষার দরকার নেই ।

• ২১ থেকে ২৯ বছর বয়সে কেবল সাইটোলজি বা কোষ পরীক্ষা, প্রতি ৩ বছরে ।

• ৩০ থেকে ৬৫ বছর বয়সে সাইটোলজি এবং এইচ.পি.ভি টেস্ট (কো-টেস্টিং) প্রতি ৫ বছরে । সম্ভব না হলে সাইটোলজি করুন প্রতি ৩ বছরে ।

• ৬৫ বছরে ঊর্ধ্বে কোনও স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজন নেই ।

• এইচ.পি.ভি ভ্যাকসিন নিলে বয়স অনুসারে স্ক্রিনিং করতে হবে।

0 Comments

Leave a Comment