শীঘ্রপতনের সাতকাহন

1928 Views 0 Comment

ইজাকুলেশনের তিনটি পর্যায়

প্রথমত, বীর্যথলি ও শুক্রবাহী নলের সংকোচনের ফলে ধুতু মূত্রনালীতে (আপার ইউরেথ্রা বা প্রস্টেটিক ইউরেথ্রাতে) এসে পড়ে। দ্বিতীয়ত, মূত্রথলি ও মূত্রনালীর মধ্যে সংযোগকারী স্পিংটারটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তৃতীয় পদক্ষেপ অর্থাৎ শেষ প্রক্রিয়াটি (রিফ্লেক্স) হচ্ছে মূত্রনালীর চারদিকে যেসব মাংসপেশি আছে সেগুলির সংকোচন হয় যার ফলে ধাতু পুরুষাঙ্গের ডগা দিয়েই নিক্ষিপ্ত হয়। শেষোক্ত কাজটি ঐচ্ছিক নার্ভের অর্থাৎ সোমাটিক নার্ভের তত্ত্বাধানে হয় (পুডেনডাল ও পেরিনিয়াল নার্ভ)। এমনকী সঠিক বীর্য নিক্ষেপণ প্রক্রিয়াতে পায়খানার দ্বারের চারদিকে অবস্থিত নানা পেরিনিয়াল মাংসপেশি ও লিভেটর অ্যানি মাংসপেশিগুলিও সক্রিয় ভূমিকা নেয়।

ইজাকুলেশনের নানা পর্যায়

প্রথম পর্যায়-প্রথমে ভ্যাস ও সেমিনার ভেসিকল থেকে বীর্য এসে পড়ে মূত্রনালীর ওপর অংশে।

দ্বিতীয় পর্যায়—পরের পদক্ষেপটি হচ্ছে বীর্য মূত্রনালী বা ইউরেথ্রা দিয়ে আরও এগিয়ে যায়। এই সময়ই অনেক পুরুষ চরম আনন্দ পান (অরগ্যাজম)। যদিও কিছু কিছু পুরুষ অরগ্যাজমের অনুভূতি আর একটু পরে অনুভব করেন। খুব স্বল্প সংখ্যক পুরুষ বীর্য নিক্ষেপ হলেও চরম আনন্দ থেকে চিরবঞ্চিত থাকেন (অ্যান অরগাজসিক ইজাকুলেশন)

তৃতীয় পর্যায়—এই সময়ে বীর্য ছিটকে বেশ তীব্র গতিত গ্লান্স পেনিস থেকে নিক্ষেপিত হয়।

কোন নার্ভ কখন এমিশন প্রক্রিয়ার ওপর খবরদারি করে

প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ ভ্যাস ও সেমিনাল ভেসিকলের কম্পন নিয়ন্ত্রিত হয় সিমপ্যাথেটিক নার্ভের দ্বারা (T10-T12)। এই নার্ভ ঠিকমতো কাজ না করলে ডিলেড ইজাকুলেশন হবে (>২০ মিনিট)। দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ কোনদিকে শেষমেশ অগ্রসর হবে সেটি নিয়ন্ত্রিত হয় মুখ্যত প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভের ওপর (S2-S4)। তৃতীয় বা চরম পর্যায় অর্থাৎ বীর্য ছিটকে ছিটকে যখন লিঙ্গ থেকে বেরিয়ে যায় তা নিয়ন্ত্রিত হয় মুখ্য ঐচ্ছিক নার্ভের ওপর। যার নাম পুডেনডাল নার্ভে (সোমাটিক নার্ভ)। লক্ষ্যণীয়, ‘ইরেকশন’ যেমন মুখ্যত পেনিসের নানা রক্তনালী ফেঁপে যাওয়ার খেলা, সে তুলনায় বীর্য নিক্ষেপন প্রক্রিয়া মুখ্যত নার্ভের খেলা।

তৃতীয় পর্যায় শেষ হলেই পুরুষদের অরগ্যাজম প্রক্রিয়াটির সমাপ্তি ঘটে এবং পুরুষাঙ্গ ১৩ থেকে ১৫ সেমি থেকে ছোট হতে শুরু করে। এই কাঠ-খড় পুড়িয়ে তবেই না বীর্যপাত। মস্কিষ্কের কিছু নার্ভ সেন্টার বা নার্ভ ফাইবার তাদের স্বাভাবিক মেজাজ হারালে লিঙ্গ উথানের সমস্যা হবে, নতুবা লিঙ্গ দৃঢ় হলেও বীর্যস্থলন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। তবে মনে রাখা উচিত যে ইরেকশন প্রক্রিয়ার মুখ্য সঞ্চালক হচ্ছে মস্তিষ্কে অবস্থিত নার্ভ সেন্টার। সে তুলনায় বীর্য নিক্ষেপ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে মুখ্যত শিরদাঁড়াতে অবস্থিত নার্ভ সেন্টার। যদিও এই এমিশস অর্ডার সক্রিয় হয়ে ওঠার ফাইনার অর্ডার আসে মস্তিষ্ক থেকে।

যৌন অক্ষমতায় মস্তিষ্কের ই.ই.জি করার প্রাসঙ্গিতা

অনেক বিচক্ষণ ডাক্তারবাবু আছেন যারা প্রি-ম্যাচিওর ইজাকুলেশন (PME)-এর মতো অতি স্বাভাবিক সমস্যা নিয়ে এলেও তারা যেমন নানা রোগ আছে কি না জিজ্ঞাসা করেন, তেমনি নিয়মিতভাবে কোনো ওষুধ খেয়ে চলেছেন কি না তাও খুটিয়ে জেনে নেন। তার পর তারা চান পুরুষটিকে পরীক্ষা করতে, যার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় নানা স্নায়ুকোষ কেমন কাজকর্ম করছে তার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা (নার্ভ রিফ্রেক্সেস) এবং টেস্টিস ও এপিডিডাইমিসের পরীক্ষা। এমনকী রেক্টাল পরীক্ষা করতেও তারা ভুলে যান না।

এবার আসি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার কথায়। এই সব ডাক্তারবাবুরা রক্তে টেস্টোস্টেরন এবং এস.এইচ. প্রোল্যাক্টিনের মাত্রা ও ব্লাড সুগারও মাপেন। প্রয়োজনে পায়খানার দ্বারে সনোগ্রাফি প্রোব প্রবেশ করিয়ে প্রস্টেট ও সেমিনাল গ্রন্থির ছবিও তোলেন (TRVS)। কোনো কিছু না ধরা গেলে তখন তারা মস্তিষ্কের ই.ই.জি করতেও ছাড়েন না। কারণ মস্তিষ্ক থেকেই ইরেকশন ও ইজাকুলেশন নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে শীঘ্রপতনের সমস্যাতে ই.ই.জি করতে বললে অনেক পুরুষই ডাক্তারকে পাগল বলবেন যা একেবারেই যথার্থ নয়। যেসব পুরুষের বীর্য নিক্ষেপণ প্রক্রিয়ায় খামতি আছে তাদের মস্তিষ্কের কিছু গড়বড় হয়েছে কি না তা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে।

যতই দিন যাচ্ছে ততই জানা যাচ্ছে পি.এম.ই-র সমস্যায় দীর্ঘস্থায়ী উপশম দিচ্ছে। পি.এম.ই-র সমসায় অনেকেই প্রথমে মস্তিষ্কের ই.ই.জি করে নিচ্ছেন এবং গুরুত্ব সহকারে অন্যান্য ইনভেস্টিগেশন করে তবে চিকিৎসা শুরু করেছেন। সেজন্য সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারে কোনো ডাক্তারবাবু যদি ই.ই.জি করতে বলেন তাহলে গড়িমসি করবেন না।

আগেই বলা হয়েছে যে বীর্য ত্যাগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় হাইপোথ্যালামাসের অগ্রভাগ (প্যারাভেন্ট্রিকুলার নিউক্লিয়াস ও মেডিয়ান অ্যারিয়ে অপটিক এরিয়া অফ হাইপোথ্যালামাস [MPOA]) থেকে। মানসিক রোগ থাকলে বা যেসব পুরুষের সুস্থ চিন্তাভাবনা প্রক্রিয়ার ঘাটতি থাকে তাদের ক্ষেত্রে এইসব স্নায়ুকোষগুলি ক্রমপর্যায়ে অর্থাৎ ঐক্যতান মেনে কাজ করে না। MPOA ছাড়াও মধ্য মস্তিষ্কের ‘প্যারা-অ্যাক্যুইডাকটাল গ্রে ম্যাটার’ ও ‘সেক্স কো-অর্ডিনেটর’ হিসাবে কাজ করে। এই সব কোষের রোগ হলে ও ঠিকমতো কাজ না করলে মেরুদন্ডে অবস্থিত নীচের লেবেলের সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভগুলি মস্তিষ্ক থেকে সঠিক ‘অর্ডার’-ও পায় না। এইসব কারণে সিমপ্যাথেটিক (T10-T12) এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক (S2-S4) সেগমেন্টগুলি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে পরপর হুকুম না পাওয়ার জন্য ভ্যাস ও নল দুইটও সেমিনাল ভেসিকল সঠিকভাবে সংকুচিত হয় না। ফলে প্রস্টেটিক ইউরেথ্রাতেই (মূত্রনালীর প্রথম অংশে) বীর্য আসেই না—নিক্ষেপ তো দূর অস্ত! তারা অ্যান-ইজাকুলেশন রোগে বা ইজাকুলেটরি ইনকমপিটেন্স রোগে ভোগেন। আর এগুলি অতি সক্রিয় হলে শীঘ্রপতন রোগ যে হবে তা তো সক্রিয় হলে শীঘ্রপতন রোগ যে হবে তা তো সহজবোধ্য।

কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পর্যায়টি কাজ না করার ফলে মস্তিষ্ক ঠিক কাজ করলেও মূত্রনালী সংকুচিত হয় না। ফলে বীর্যকে ঠেলে ঠেলে লিঙ্গ ‍মুন্ডের দিকে ধাবিত হয় না। ফলস্বরুপ বীর্য নিক্ষেপিত হয় না।

মস্তিষ্কের ইজাকুলেটরি সেন্টারগুলি কোথা কোথা থেকে উত্তেজিত হবার জন্য নানা খবর পায়

এই নার্ভ সেন্টারগুলি ঘ্রাণ, দর্শন, স্পর্শ এবং শব্দ-এই সব নানা মাধ্যমে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তখন মস্তিষ্ক করে কি মেরুদন্ডে অবস্থিত আর একটি ইজাকুলেটরি সেন্টারকে অর্ডার পাঠায়। ওপরে উল্লেখিত নানা সেনসারি স্টিমুলেশন (উত্তেজনা) ছাড়াও ইজাকুলেটরি সেন্টার শেষমেশ উত্তেজিত হবে কি হবে না তা নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু ‘সাইকোলজিক্যাল কগনিটিভ প্রসেসিং’। এইগুলিকে কেউ কেউ ‘কো-অর্ডিনেটর অফ সেক্স প্লে’ বলে থাকেন যার মধ্যে MPOA-এর নাম অগ্রগণ্য। আর গোল বাধে এখানেই। এই ক্রিয়াকলাপটি ওষুধ দিয়ে এখনও নিরাময়যোগ্য নয়। যদিও ক্লিনিক্যাল সাইকোঅ্যানালিস্টারা যথেষ্টই সাহায্য করতে পাবেন।

কাকে বলে অরগ্যাজম

অরগ্যাজম বা চরম যৌন আনন্দের দুটি পর্যায় আছে—

প্রথম পর্যায়-সেন্স অফ ইজুকুলেটরি ইনএভিটেবিলিটি

বীর্য নিক্ষেপ হওয়ার ঠিক ২-৪ সেকেন্ড আগে একটা বিশেষ অনুভূতি হয়। ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে ‘ইজাকুলেটরি ইনএভিটেবিলি’। এটি হচ্ছে ‘ফিলিং অফ সেন্ট অফ দ্য এমিনেন্স অফ ইজাকুলেশন’। যারা ‘কয়টাস ইন্টারপটাস’ পন্থা অবলম্বন করে চলেন তারা একটি বিশেষ সময়ে যোনিপথ থেকে পুরুষাঙ্গ বার করে নেন এবং বহিঃজননাঙ্গে বীর্য নিক্ষেপ করে থাকেন। এই সময় পেনিস বার করে না নিলে বীর্যপতন  আর রোধ করা যাবে না। এই অনুভূতি হয়ে থাকে সেমিনার গ্রন্থি ও প্রস্টেট গ্রন্থির কম্পনের জন্য। যারা বেশ কয়েকমাস সহবাস করে চলেছেন তারা এই ‘গেল গেল’ ভাব বুঝতে সক্ষম হন।

অরগ্যাজমের দ্বিতীয় পর্যায়—এই পর্যায়ে ১-২ সেকেন্ড ব্যবধানে (গড়পড়তা ০.৮ সেকেন্ড) মূত্রনালীর ৬-৮ বার বড় কম্পন হয়। যার ফলে বীর্য মূত্রনালী দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে যায়। পরবর্তী ৪৫ সেকেন্ড ধরে মূত্রনালীর আরও কয়েকটি তীব্র কম্পন হতে থাকে। যেগুলি ঠিক মূত্রনালীর মাংসপেশি কম্পন না হলেও পেরিনিয়াল ও বালবো ক্যাভারনোসাস মাংসপেশির কম্পন। ফলত বীর্য নিক্ষেপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

কত ধরনের স্নায়ু (নিউক্লিয়াস) বা জৈব পদার্থ বীর্যত্যাগ প্রক্রিয়াতে অর্থাৎ এপিডাইমিস, ভ্যাস, বীর্যথলি ও শেষের প্রস্টেট গ্রন্থির ওপর প্রভাব খাটায়

যেসব সেরিব্রাল নার্ভ সেন্টার অর্থাৎ নিউক্লিয়াস ইজাকুলেশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে তাদের নাম আগেই বেশ কয়েখবার বলা হয়েছে। এখন বলা হবে সেইসব কোষ থেকে নির্গত নানা জৈব রাসায়নিক পদার্থের নাম (নিউরো-ট্রান্সমিটারস) যেগুলি পুং-জননাঙ্গের ওইসব অঙ্গে কার্যকরী হয়। সেইসব জৈব পদার্থগুলির নাম হল —ডোপামাইনার্জিক, যা ডোপামাইন নির্গত করে, সেরোটাইনার্জিক নার্ভ যা সেরোটোনিন নির্গত করে; GABA-ergic নার্ভ যা গ্যাবামাইন নির্গত করে, কোলিনার্জিক নার্ভতন্ত্র সকল। তবে নাইট্রিক অ্যাসিড বলে এক অতি সক্রিয় জৈব রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এইসব স্নায়ুর নানা কাজকর্ম ও জৈব পদার্থগুলির কেমিক্যাল পদার্থগুলির কাজকর্মের হেরফের করে বীযস্খলন প্রক্রিয়া এখন শুধরে নেওয়া যেতে পারে। চাই জানবার নিষ্টা, আর চাই ঠিকভাবে রোগ নির্ণয়। এমনকী প্রয়োজনে ই.ই.জি করা উচিত। তারপরে সঠিক ওষুধ বাছাই।

ওই স্নায়ুকোষগুলি কী করে প্রশমিত ও উদ্দীপিত করা যায় বা নিউরো ট্রান্সমিটারকে কী করে প্রশমিত করা যায় তা নিয়ে গবেষণা চলছেই। কারণ পুরুষদের সমস্যায় ব্যাপকতা যে খুব বেশি।

শীঘ্রপতন উপসর্গ শুধরে নেওয়ার সময় ওষুধ বাছাই প্রক্রিয়া অপাতদৃষ্টিতে বেশ সহজ সরল প্রক্রিয়া হলেও তা কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী নয়। সে তুলনায় ‘ডিলেড ইজাকুলেশন’ বা ‘অ্যান-ইজাকুলেশন’ নিরাময়ে ওষুধ বাছাই বেশ কঠিন কাজ। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ বাছাই বেশ কঠিন কাজ। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ সঠিক কাজও করে না। যদি কিনা হরমোনের মাত্রা না মাপা হয় এবং ই.ই.জি না করা হয়। যদিও ‘রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনের’ (প্রস্রাবের থলিতে শুক্র প্রবেশ করে যাওয়া) চিকিৎসা এখন প্রায় চিকিৎসকদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু ওষুধ ছাড়াও চাই সহৃদয় ক্লিনিক্যাল সাইঅ্যানালিস্টের পরামর্শ ও পরিবারবর্গের উৎসাহ।

বীর্য নিক্ষেপের মূল জৈব রসায়ন কী কী

এই প্রক্রিয়াতে মুখ্যত নর-এপিলেট্রিন কাজ করে। আর কাজ করে অ্যাসিটিলকোলিক। কিছু বিজ্ঞানীর মতে নিউরোপেপটাইড ওয়াই (       NPY), ভ্যাসো-অ্যাক্টিভ ইনটেস্টিনাল পেপটাইড (VIP), নাইট্রিক অক্সাইড ও ক্ষেত্রবিশেষ অক্সিটোনিনও কাজ করে। কে জানে হয়তো এই সব রাসায়নিক পদার্থগুলিকে দমিয়ে ইজাকুলেশন প্রয়োজনমতো বিলম্বিত বা ত্বরান্বিত করা সম্ভবপর হবে।

ইজাকুলেটরি সেন্টার কাকে কয়

মনে রাখা উচিত মিলনের প্রথম পর্যায় অর্থাৎ লিঙ্গ উথান নিয়ন্ত্রিত হয় মুখ্যত মস্তিষ্ক থেকে। অর্থাৎ ইরেকশন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয় মুখ্যত প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ দ্বারা। আর রতিক্রীড়ার শেষ অষ্ক অর্থাৎ ‘বীর্য নিক্ষেপণ প্রক্রিয়া’ সাধিত হয় মূলত সিমপ্যাথেটিক নার্ভ দ্বারা। অনেক পুরুষই মোটর সাইকেল বা গাড়ি দুর্ঘটনায় বা অনেক রাজমিস্ত্রি ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদন্ডে আঘাত পান। তাদের লিঙ্গ উথ্থান হলেও বীর্যস্খলন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। কারণ স্পাইনাল কর্ডেই আছে সেই ইজাকুলেটরি সেন্টার যা বীর্য নিক্ষেপ করতে সাহায্য করে। শেষমেশ তাতে মস্তিষ্ক অর্ডার দিক আর নাই দিক, মেরুদন্ডের কাজ ছাড়া বীর্য নিক্ষেপই হবে না।

বিশেষ কয়েকটি স্নায়ুর ঐক্যতান যা অর্কেস্ট্রার যাদুদন্ডের মতো কাজ করে। ব্রেন থেকে আগত ইজাকুলেটরি সেন্টারের আদেশ পালন করে। আগেই বলা হয়েছে যে শুধু তৃতীয় পর্যায়টিতে সাধারণ নার্ভ অর্থাৎ সোমাটিক নার্ভ কাজ করে (S2, S3, S4)। বাকি দুটি পর্যায় নিয়ন্ত্রিত হয় সিমপ্যাথেটিক নার্ভ দ্বারা। এই কাজ করে থাকে মেরুদন্ডের অর্থাৎ স্পাইনাল কর্ডের L12, L1, L2। অ্যান্ড্রোলজিস্টারাই এই স্নায়ু সেন্টারকে ‘ইজকুলেটরি সেন্টার’ বলে থাকেন।

কী কী নার্ভ বীর্য নিক্ষেপণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে ? গোঁফ দাড়ি গজালেই বীর্যস্খলনে সেই কিশোরটি সমর্থ ?

পিউবার্টি (হঠাৎ শম্বায় বড় হয়ে যাওয়া ও গোঁফ দাড়ি গজানো) শুরু হবার প্রায় ১বছর পরে জীবনে প্রথমবার বীর্যস্খলন হয়। এমন নয় যে গোঁফ-দাড়ি গজালো মানেই তার বীর্যস্খলন প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহণকারী নানা নার্ভ সেন্টার ও স্নায়ুতন্ত্রগুলি পূর্ণতাপ্রাপ্ত পেয়ে গেল। এই কো-অর্ডিনেটিং সেন্টারটি T12 স্পাইনাল সেগমেন্টে অবস্থিত। বারবার এইসব তথ্য উল্লেখ করাতে কিছু পাঠক-পাঠিকা হয়তো ‘হাই’ তুলে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিতে উদ্যোগী হচ্ছেন। কিন্তু তাদের জ্ঞাতার্থে জানাই যে হারে মোটরবাইক দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং যে হারে কলকাতা ও জেলা শহরে স্পাইনাল কর্ড ট্রমা সেন্টার নতুন করে উদ্ধোধন হচ্ছে, তা আমাদের মতো ডাক্তারদের ভাবাচ্ছে যে হয়তো ২০২৫ সালে ১ শতাংশ যুবা পুরুষই স্পাইনাল কর্ড বা মস্তিষ্কের চোট আঘাতে ব্রেনের বা স্পাইনাল কর্ডের চোট আঘাতে কী করে ‘ইজাকুলেশন’ প্রক্রিয়া আগেকার অবস্থায় ফিরে আসে তা নিয়ে পরামর্শ চাইতে আসবেন। আর এসব অনুমান করেই পাতর পর পাতা মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ড নিয়ে এত সব হাতেগরম কিন্তু সত্য বৈজ্ঞানিক তথ্য জানাবার তাগিদ। এমনিতেই ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি জনিত, মানসিক অবসাদ (ডিপ্রেসন) জনিত ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার নিমিত্ত ইরেকশন ও ইজাকুলেটরি ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের ভিড় সামলাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় ডাক্তারদের।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

0 Comments

Leave a Comment