সামান্য পাতার অসামান্য গুণ

498 Views 0 Comment
সামান্য পাতার অসামান্য গুণ

রাসায়নিক উপাদান

প্রধানত বেশ কয়েক প্রকার হাইড্রোকার্বন যৌগ স্টেরল যৌগ, জৈব অম্ল (মেলিসিকঅ্যাসিড, বিবেনাই অ্যাসিড, বুটারিক অ্যাসিড, মাইরিসটিক অ্যাসিড প্রভৃতি), অত্যবশ্যকীয় তেল, রেজিনসহ প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, লিপিড ও শর্করা দ্রব্য থাকে।

ভেষজ গুণাগুণ:

  • বসন্ত প্রতিষেধক হিসেবে কলমীশাকের রস দু’চামচ পরিমাণে নিয়ে সামান্য গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে একবার করে সকালে তিনদিন খেলে সন্ত রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  • গনোরিয়া রোগে চার-পাচ চামচ কলমীশাকের রস অল্প ঘিয়ে সাতলে দিনে দু’বার করে কয়েকদিন খেলে ক্রমে রোগের প্রকোপ কমে ও রোগটি পরে সম্পূর্ণভাবে সেরে যায়।
  • বোলতা, মৌমাছি, ভীমরুল দংশন করলে সঙ্গে সঙ্গে কলমীপাতার রস লাগিয়ে দিলে দ্রুত সব জ্বালা-যন্ত্রণা চলে যায়।
  • ফোঁড়া পাকা ও ফোঁড়া ফাটানোর জন্য কলমীগাছের শেকড় বেটে আক্রান্তস্থানে লাগিয়ে রাখলে দ্রুত উপশম হয়।
  • পেটে বায়ু হলে কলমী শাক সেদ্ধ করে জলটা ফেলে দিয়ে তেলে সাতলে শাক রান্না করে খেলে রোগটি চলে যায়।
  • ক্ষুধামান্দ রোগে কয়েকদিন নিয়মিতভাবে কলমী শাকের তরকারি ভাতের সঙ্গে খেলে রোগটি দূর হয়।
  • আমাশা রোগে মতান্তরে, কয়েকদিন কলমী শাকের রান্না খেলে আমাশা রোগ দূর হয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে দেহের পরিপুষ্টির সঙ্গেসঙ্গে বিশেষত বয়স্কদের দেহে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভালো ফল দেয়।
  • মূত্রকৃচ্ছতা রোগে মতান্তরে, কয়েকদিন ক্রমাগত কলমী শাকের রান্না ভাতের সঙ্গে খেলে প্রবীনদের মূত্রঘটিত রোগের উপশম হয়।

থানকুনি

রাসায়নিক উপাদান

থানকুনি গাছে প্রধানত বিভিন্ন প্রকার শর্করা দ্রব্য, জৈব অম্লরূপে পেসিফিক অ্যাসিড, সেন্টোটিক অ্যাসিড প্রভৃতি, উপক্ষার রূপে হাইড্রোকোটাইলিন, ভেল্লারিন প্রভৃতি, স্টেরল রূপে বিটাসিটোস্টেরল, গ্লাইকোসাইড রূপে অ্যাসিটিকোসাইড। রেজিনদ্রব্যাদিসহ বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও প্রচুর প্রোটিন থাকে।

ভেষজ গুণাগুণ

  • অপুষ্টি রোগে পাঁচ-ছ’চামচ থানকুনি পাতার রস একটু গরম করে তার সঙ্গে এক কাপ দুধ ও চিনি মিশিয়ে দিনে অন্তত একবার করে কয়েকদিন খেলে বিশেষত শিশুদের অপুষ্টি ক্রমে দূর হয়।
  • কেশ পতন রোগে থানকুনি পাতার রস ভালো কাজ করে। এক্ষেত্রে পাঁচ চামচ থানকুনি পাতার রস একটু গরম করে তার সঙ্গে এক কাপ দুধ ও চিনি মিশিয়ে দিনে অন্তত একবার করে সাত-আটদিন খেলে হবে।
  • গায়ের দুর্গন্ধ রোগে মাঝে মাঝে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন থানকুনি পাতার তরকারি খেলে ভালো ফল দেয়।
  • স্মৃতি লোপ রোগে যে কোনো বয়সের মানুষর ক্ষেত্রে থানকুনি ভালেঅ কাজ করে। এক্ষেত্রে পাঁচ-ছ’চামচ থানকুনি পাতার রস একটু গরম করে তারসঙ্গে এক কাপ দুধ ও সামান্য মধু মিশিয়ে দিনে অন্তত একত্র করে কয়েকতিন খেতে হবে। এই রোগে থানকুনি পাতার তরকারি খেলেও উপকার পাওয়া যায়।
  • দেহের কান্তি ও লাবণ্য বৃদ্ধির জন্য পাঁচ-ছ’চামচ থানকুনি পাতার রস একটু গরম করে তার সঙ্গে এক কাপ দুধ ও চিনি মিশিয়ে দিনে অন্তত একবার করে কয়েকদিন খেলে দেহের অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে উক্ত বিষয়ে ভালো ফল দেয়।
  • ঋতুজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে থানকুনি পাতা রান্না করে খেলে কিংবা রস তৈরি করে কয়েকদিন খেলে উপকার বোঝা যায়। প্রয়োজনে আরো কয়েকদিন খেতে হতে পারে।
  • দূষিত ক্ষত বা ঘায়ে থানকুনি পাতার রস ঘিয়ের সঙ্গে পাক করে আক্রান্ত স্থানে লাগালে কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষত সেরে যায়।
  • মুখের ঘা রোগে কোনো ভিটামিনের অভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে থানকুনি পাতা রান্না করে খেলেও পাতার রস দিয়ে কুলকুচি করলে ভালো ফল দেয়।
  • আমাশা ও জ্বরে (পুরাতন ও তীব্রতর) থানকুনির পাতার রস খালিপেটে তিনদিন খেলে সব উপসর্গ দূর হয়। সাধারণ আমাশা রোগেও ভালো ফল দেয়।
  • আঘাত জনিত ব্যথার থানকুনি পাতা বেটে একটু গরম করে সেই স্থানে লাগিয়ে রাখলে অতি দ্রুত সব ব্যথা-বেদনা দূর হয়।
  • পেটের দোষ অর্থাৎ সব রকম পেটের অসুখে থানকুনি পাতার রস কিংবা পাতা রান্না করে খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়।
  • সর্দিকাশি  ও নাক বন্ধ রোগে থানকুনি পাতার রস খেলে কিংবা থানকুনি মূল্যের নস্যি নিলে খুবই উপকার পাওয়া যায়।

আমরুল

রাসায়নিক উপাদান

সমগ্র দেহে প্রধানত ভিটামিন, খনিজ উপাদান (সোডিয়াম, পটাসিয়াম, লৌহ), অকজালিক অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিডসহ অন্যান জৈব অম্ল, কয়েক প্রকারে উপক্ষার থাকে।

ভেষজ গুণাগুণ:

  • চুলকানি বা ত্বকের রোগে আমরুল পাতার রস কয়েকদিন নিয়ম করে গায়ে মাখলে রোগ উপসর্গ দূর হয়।
  • মূত্রঘটিত রোগে আমরুল পাতার রস দু’চামচ পরিমাণে নিয়ে আধ কাপ জলের সঙ্গে সরবত তৈরি করে দিনে দু’বার করে দু’তিনদিন খেলে রোগটি সেরে যায়।
  • আমাশা রোগে আমরুল পাতার তরকারি করে খেলে কিংবা পাতার রস সরাসরি কয়েকদিন জলের সঙ্গে খেলে ভালো ফল দেয়।
  • কোমরের ব্যথায় বিশেষত স্থূলকার মানুষের দেহে আমরুল পাতার রস দু’চামচ পরিমাণে নিয়ে একটু গরম করে দিনে দু’বার করে দু’-তিনদিন খেলে উপকার বোঝা যায়। পরে প্রয়োজন বোধে আরো কয়েকদিন খেতে হতে পারে।
  • সর্দিকাশির ক্ষেত্রে পুরাতন বসে যাওয়া সর্দি রোগে আমরুল পাতার রস (এক চামচ) একটু গরম করে কয়েকদিন খেলে রোগটি সেরে যায়। মতান্তরে সরষের তেলের সঙ্গে এই রস পাক করে গলায়-পিঠে মালিশ করলে রোগের উপশম হয়।
  • পিত্তঘীটত রোগে আমরুল পাতার তরকারি রান্না করে ভাতের সঙ্গে খেলে কিংবা সরাসরি দু’-তিন চামচ রস জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে অন্তত দু’বার করে দু’-তিন দিন খেল উপসর্গ ক্রমে দূর হয়।
  • অজীর্ণ রোগে আমরুল পাতা কয়েকদিন পর পর তরকারি করে খেলে কিংবা সরাসরি দু’-তিন চামচ রস জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে অন্তত দু’বার করে কয়েকদিন খেলে রোগটি সেরে যায়।
  • শিশুদের অপুষ্টি রোগে আমরুল পাতা রান্না করে মাঝে মাঝে অন্তত কয়েকদিন খেলে ক্রমে শিশু স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ফিরে পায়।

সজনি শাক

রাসায়নিক উপাদান

প্রধানত ভিটামিন-সি, এ, বি, নিকোটিনিক অ্যাসিড প্রভৃতি, ফ্ল্যাভোনয়েড, পলিস্যাকারাইড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, কিছু উপক্ষার, অ্যান্টিবায়োটিক দ্রব্য, খনিজ উপাদান প্রভৃতি থাকে।

ভেষজ গুণাগুণ

  • হিস্টেরিয়া রোগে শুকনো মূল চূর্ণের সঙ্গে গরুর দুধ মিশিয়ে কয়েকদিন খেলে উপকার বোঝা যায়। পরে প্রয়োজনবোধে আরো কয়েকদিন খেতে হবে।
  • পক্ষাঘাত রোগে মূলকে টুকরো টুকরো করে কেটে সরষের তেলের সঙ্গে গরম করে ঠান্ডা হওয়ার পর আক্রান্ত অঙ্গে কয়েকদিন ভালো করে মালিস করলে ভালো ফল দেয়। ক্রমে রোগটি সেরে যায়।
  • শিশুদের চর্মরোগে কান্ড ছেচে আক্রান্ত ত্বকে লাগালে সব রকমের চর্ম রোগ উপশোম হয়।
  • বসন্ত প্রতিষেধক হিসেবে কয়েকদিন সজিনা ফুলের সঙ্গে পাতা মিশিয়ে রান্না করে খেলেই সন্ত রোগের প্রতিষেধক রুপে ভালো কাজ করে।
  • সর্দিকাশি রোগে সজিনা ফুল কয়েকদিন ক্রমাগত রান্না করে খেলে পুরাতন সর্দিকাশি দ্রুত  দূর হয়।
  • অপুষ্টি রোগে যেহেতু সজিনা পাতার প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে, তাই সজিনা পাতা পর পর কয়েক দিন রান্না করে নিয়মিতভাবে খেলে সব বয়সের মানুষের দেহে অপুষ্টি ব্যাপারটা দূর করে। দেহ স্বাভাবিক পুষ্টি লাভ করে।
  • রক্তচাপ রোগে সজিনা পাতার টাটকা রস দু’বেলা আহারের পূর্বে দু-তিন চামচ পরিমাণে কয়েকদিন খেলে উপকার বোঝা যায়।
  • টিউমার রোগে ‍টিউমার প্রথমাবস্থায় সজিনা পাতা বেটে অল্প গরম করে দিনে দু’বার করে দু’-তিনদিন লাগালে উপকার বোঝা যায়। উপকার বুঝে পরে প্রয়োজনে আরো কয়েকদিন  ব্যবহার করতে হবে।
  • জ্বর রোগে সজিনা পাতার ঝোল কিংবা সজিনা পাতা রান্না করে খেলে ভালো ফল দেয়।
  • হিক্কা রোগে টাটকা সজিনা পাতার রস চার-পাঁচ ফোটা পরিমাণে নিয়ে তার সঙ্গে সামান্য দুধ মিশিয়ে দিনে দু’বার করে খেলে পরের দিনই উপকার পাওয়া যায়।
  • অর্শ রোগে বেশ কয়েকদিন সজিনা পাতার তরকারি রান্না করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • দাঁতের মাড়ি ফোলা রোগে সজিনা পাতার ক্বাথ বেশিক্ষণ ধরে মুখে রখে দিনে দু’-তিনবার কুলকুচি করলে দাতের মাড়ির রোগটি দ্বিতীয় দিনে সেরে যায়।
  • কুষ্টরোগে সজিনা বীজের তেল কিংবা বীজ বেটে সেই অঙ্গে লাগিয়ে রাখলে রোগের প্রকোপ কমতে থাকে।
  • দাদ-চুলকানি রোগে সজনে মূলের ছালের প্রলেপ আক্রান্ত অঙ্গে লাগালে দু’-তিনদিন পরে রোগটির প্রকোপ ক্রমে কমতে থাকে।
  • অনিদ্রা রোগে মতান্তরে, সজিনা পাতার তরকারি পর পর কয়েকদিন খেল অনিদ্রা রোগের উপশম হয়।
  • কৃমি হলে সজনে পাতার ক্বাথের সঙ্গে মধু মিশিয়ে দিনে দু’বার করে দু’-তিনদিন খেলে পেটের সব কৃমি বেরিয়ে যায়।
  • সজনে পাতার রস নিয়মিতভাবে কয়েকদিন মাথায় মাখলে সব খুসকি চিরতরে দূর হয়।

  • সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন
0 Comments

Leave a Comment