সারিয়ে তুলুন কোমরের ব্যথা ভেষজের সাথে

625 Views 0 Comment
সারিয়ে তুলুন কোমরের ব্যথা ভেষজের সাথে

আজকাল প্রায়ই দেখা যায় কোমরের যন্ত্রণার জন্য অফিস ঠিকমতো কাজে মন দিতে পারছেন না অনেকেই। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে এবং নামতে যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছে। মেঝেতে বসতে অসুবিধে, সোজা হয়ে দাঁড়াতেও কষ্ট হয়। অর্থাৎ প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামে আপনি পিছিয়ে পড়ছেন।

দেহের অর্থাৎ শরীরের অস্থি, অস্থি-মজ্জা বা সংযোগস্থল এবং মাসংপেশি সমূহের প্রয়োজন অঙ্গ সঞ্চালন। মনুষ্যদেহের অস্থি-কষ্কাল কারিগরী কলানৈপুণ্যের এক অদ্ভুত চমৎকার নির্দশন। এর বিভিন্ন অংশগুলো কতকগুলো বিশেষ ক্রিয়া সংসাধনের জন্য নির্মিত হয়েছে। কোমেরের অস্থি বা হাড় দেহের কাঠামোর আধার। দেহের অর্থাৎ মানব দেহের সূক্ষ্মাংশগুলোকে রক্ষা করা তাদের কাজ। অস্থিগুলো দেহের কোনো মৃত কাঠামো নয়। এগুলো দেহের সজীবতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোমরের অস্থিগুলো অস্থিকোষ সমূহের সমন্বয়ে গঠিত। রক্তনালিকা সমন্বিত অতি ক্ষুদ্র প্রবাহিকাগুলোর চারপাশে কোষগুলো বৃত্তাকারে সজ্জিত থাকে। প্রত্যেকটি অস্থিকোষ ক্যালসিয়াম সল্টের সুদৃঢ় স্তর দ্বারা চারপাশে আচ্ছাদিত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্ত লসিকাগুলো এই প্রবাহিকাগুলোকে ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করে, এবং রক্তকোষগুলোকে পুষ্ট করাই তাদের লক্ষ্য। ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও ফসফেট কোমরের হাড়গুলোকে সচল করে তুলতে সাহায্য করে।

কোমরের যন্ত্রণার কারণ

অত্যধিক পরিশ্রম, যথাযথ বিশ্রাম না নেওয়া, ক্যালসিয়ামের অভাব, পুষ্টির অভাব এবং বয়স। বেঠিক আহার-বিহার অর্থাৎ নিয়মমতো আহার গ্রহণ না করা। অতিরিক্ত ওজন অর্থাৎ বয়স অনুসারে শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি। এছাড়া আঘাত বা দুর্ঘটনায় অস্থিভঙ্গ।

  • রাস্না, গুলঞ্চ,এরন্ডমূল, দেবদারু ও শুঁঠ এই সমস্ত ভেষজ তিন কাপ জলে ফুটিয়ে এক কাপ অবস্থায় নিয়ে সকালে খালিপেটে সেবন করুন প্রতিদিন। প্রায় তিন মাস খেতে হবে।
  • পুনর্নবা, রাস্না, অশ্বগন্ধা, নিশিন্দা, পিপুল সমপরিমাণে নিয়ে রাতে ফুটন্ত গরম জলে ভিজিয়ে সকালে এক কাপ করে প্রতিদিন সেবন করলে কোমরের যন্ত্রণার উপশম হবে।
  • প্রবাল ভস্ম, কুক্কুটাস্ক ভস্ম, নিশিন্দা, শুঁঠ, সুরঞ্জন মিশ্রিত করে সেবন করলে কোমরের অতিরিক্ত ব্যথা কমতে থাকে।
  • কোমরের অসহ্য বেদনা নিবারণে বিষগর্ভ তেল এবং সৈন্ধবাদ্য তেল সমানভাবে মিশ্রিত করে যন্ত্রণা ও ফোল স্থানে ধীরে ধীরে মালিশ করতে হবে। এটা দিনে দু’থেকে তিনবার পর্যন্ত করতে হবে।
  • বাজারে যে সমস্ত ওষুধ পাওয়া যায় যেমন মহাযোগরস্থ গুগগুল, কৈশোর গুগগুল, বাতচিন্তামণি রস, বাত গন্ধাষ্কুল রস, কান্ডারি গুগগুল, ত্রয়দশাংশগুগগুলে দু’থেকে তিনটি বটি চারবার পর্যন্ত প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে।
  • কোমরের ব্যথায় বা হাঁটুর ব্যথায়, কিংবা যেকোনো সন্ধিস্থলের ব্যথায় অর্থাৎ অস্থিক্ষয় জনিত বাত রোগে রোগীর বলাবল অনুসারে বিভিন্ন বলকারক আসব অরিষ্ট সেবন করতে হবে যেমন অশ্বগন্ধারিস্ট, সারিবল্যরিষ্ট, বলারিষ্ট কিংবা দশমুনারিষ্ট আহারের পর চার চামচ করে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে।

বিভিন্ন প্রকার বাতরোগ যেমন কোমরের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় শরীরের বায়ু, পিত্ত ও কফের কূপিত অবস্থা থেকে সাম্যাবস্থায় না আসলে অর্থাৎ বাত, পিত্ত, কফ এবং সপ্ত ধাতু যদি মানব শরীরে সঠিখভাবে অবস্থান না করে তবে রোগীর যন্ত্রণঅ থেকেই যাবে। বাতরোগে শরীরের বায়ুর আধিক্যই প্রধান। বায়ুই যন্ত্রণার মূল। বায়ুর উপশমের জন্য প্রতিদিন সকালে ত্রিফলাচূর্ণ ও দুপুরে আহারের পর বৈশ্বানরচূর্ণ ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে।

শরীরের বাত-বেদনা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাধি। তাই যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যায়, রোগীর ক্ষেত্রে সেটাই শুভ।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

0 Comments

Leave a Comment