সায়াটিক সিনড্রোম যন্ত্রণাও কমে, রোগও সারে

1054 Views 0 Comment

এটি কতকগুলি লক্ষণের সমন্বয়, যখন যন্ত্রণা কোমর, নিতম্ব থেকে শুরু করে নীচের দিকে থাই, হাঁটু ও কাপ মাসলে ছড়িয়ে পড়ে। কোমর ও নিতম্বের স্থান শক্ত হয়ে যায় এবং স্কোলিও সিস ডেভেলপ করে। তখন সায়াটিক সিনড্রোম বলে।

সায়াটিক নার্ভ এল-৪, ৫ এবং এস-১, ২, ৩ নার্ভ রুটের সমন্বয়ে গঠিত

সায়াটিক সিনড্রোম কী কী কারণে হয়?

  • স্পাইনাল ক্যানেলে চাপ জনিত কারণে

এখন প্রশ্ন, কী কী কারণে স্পাইনাল ক্যানেলে চাপ সৃষ্টি হয়?

  • প্রোলাস্প ইন্টার ভার্টিব্রাল ডিস্ক।
  • স্পন্ডিলোলিস থিসিস।
  • ভার্টিব্রাল বডির প্রোলাপ্স, যেটা স্পাইনের কোনো অর্গানিক লিসানের জন্য হয়
  • স্পাইন্যাল মেনিনজিওমা।
  • স্পাইনাল নার্ভরুটের নিউরো-ফাইব্রোমেটা।
  • ইন্টার ভার্টিব্রাল ফোরামিনাস চাপ জনিত
  • হজকিনস ডিজিজ
  • স্পাইনাল নার্ভরুটে নিউরোফাইব্রোমেটা।
  • নার্বরুটে লিউকিমিক অথবা কার্সিনোমেটাস ডিপোজিটের জন্য
  • পেলভিসে চাপ পড়লে
  • রেক্টার ক্যানসার
  • প্রস্টেট ও ইউটেরাস ক্যানসার
  • রেট্রোভাটেড ইউটেরাস
  • থাইয়ে  চাপজনিত
  • পেলভিক বোনে সারকোমার জন্য।

ইন্টার ভার্টিব্রাল ডিস্কের প্রোলাপ্সই বেশির

ভাগ ক্ষেত্রে সায়াটিক সিনড্রোমের জন্য দায়ী

কী কারণে হয়?

৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে হঠাৎ কোনো ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে স্পাইনের সব থেকে সঞ্চারণশীল অংশই আক্রান্ত হয়। আর ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডিজেনারেটিভ কারণ দায়ী।

কী ঘটে?

ভার্টিব্রাল ডিস্ক পিছনের দিকে এবং বাইরের দিকে সরে যাওয়ার জন্য নার্ভরুট ল্যাটারালি অথবা মিডিয়ালি সরে যায়। এর ফলে নার্ভরুটের এক্সট্রাডুরাল এবং ইন্ট্রুাডুরাল অংশে চাপ পড়ে। সাধারণত ৮০ শতাংশ ডিস্ক প্রোলাস্প ঘটে লাম্বার অঞ্চলে, ১৯ শতাংশ ঘটে সারভাইক্যাল অঞ্চলে ১—২ শতাংশ ঘটে ডরসাল স্পাইনে।

 কী কী লক্ষণ পাওয়া যায়?

  • প্রথমে কোমরে ব্যথা দিয়ে শুরু হয়। বেশ কয়েক মাস বাদে অথবা বছরখানেক বাদে সায়াটিক নার্ভের ব্যথা শুরু হয়।
  • সাধারণত পুরুষেরাই বেশি আক্রান্ত হয়।
  • এটা হঠাৎ করে শুরু হতে পারে অথবা ধীরে ধীরেও শুরু হতে পারে।
  • হঠাৎ কোনো ভারী জিনিস তুলতে যাওয়ার ইতিহাস থাকে।
  • যন্ত্রণাই একমাত্র লক্ষণ, খুব তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়।
  • যন্ত্রণা লাম্বো স্যাকরাল অ্যাঙ্গেলে শুরু হয়, থাইয়ের পিছন দিয়ে কাপ মাসলে যায় এবং পায়ের পাতাতেও অনুভব হয়।
  • হাঁচি ও কাশিতে যন্ত্রণা বাড়ে। হাঁটু ও কোমর ভাঁজ করে থাকা অবস্থায় যন্ত্রণা কিছুটা কম থাকে।
  • পায়ে অবশ ভাব, পিন ফোটার মতো ব্যথা অনুভব হয়। কাপ মাসলের ঠিকমতো কার্যক্ষমতা থাকে না।
  • স্প্যাজমের জন্য শরীরের পিছনের দিকের মাসলগুলি শক্ত হয়ে যায়।
  • জোরে চাপ দিলেও চতুর্থ ও পঞ্চম লাম্বার স্পাইনে ব্যথা অনুভব হয়।
  • তৃতীয় ও চতৃর্থ লাম্বার রুট আক্রান্ত হলে অ্যাষ্কেল জার্ক কমতে পারে অথবা বাড়তেও পারে।

কীভাবে রোগনির্ণয় করা হয়?

  • রেডিওগ্রাফি।
  • মাইলোগ্রাফি : এ.পি. এবং ল্যাটারালভিউ। যখন ডিস্ক প্রোলাপ্স হয়েছে কিনা বোঝা যায় না, সেক্ষেত্রে উপযোগী।
  • ডিস্কোগ্রাফি : রেডিও ওপেক ডাই স্পাইনাল নিডলেল সাহায্যে ডিস্কের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। ডিস্ক ডিজেনারেশন ও ডিস্ক প্রোলাপ্সের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এটা।

চিকিৎসা

  • বেড রেস্ট: খুব বাড়াবাড়ি অবস্থায় বেড রেস্ট বিশেষ প্রয়োজন। যন্ত্রণা না কমা পর্যন্ত বেড রেস্টে থাকতে  হবে। অ্যাকিউট অবস্থা ২—৫ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।
  • ট্রাকশন : হালকা ট্রাকশন দেওয়া যেতে পারে। বিশ ট্রাকশন দিলে ডিস্ক প্রোলাপ্স বেশি করে ঘটতে পারে।

এই রোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিশেষ ভাবে উপযোগী। এতে যন্ত্রণাও কমে এবং রোগও প্রায় সম্পূর্ণভাবে সেরে যায়। যন্ত্রণা কমানোর জন্য ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। এটা নির্ভর করে উপযুক্ত চিকিৎসা ও চিকিৎসকের ওপর।

যদি কোনো কারণে রোগীর চলন ক্ষমতা শিথিল হয়, প্যারাপ্লিজিয়া ডেভেলপ করে, শরীরের নীচের অংশে প্যারালিসিস হয়, সেক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন


0 Comments

Leave a Comment