হাঁটু ব্যথায় আলবৎ রেহাই মিলেবে

1095 Views 0 Comment

হাঁটুর ব্যথা আজ আমাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে উঠছে। পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে পঞ্চাশ বছরের পর থেকে শতকরা পঞ্চাশ ভাগ মানুষ এই রোগের শিকার। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অল্প বয়সেও হাঁটু ব্যথার কবলে পড়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবন থমকে যায়। হাঁটু আমাদের শরীরের এমন এক অঙ্গ যেটা স্বাভাবিক ও সুস্থ না থাকলে এক অঙ্গ যেটা স্বাভাবিক ও সুস্থ না থাকলে আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক জীবন যাপন করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

হাঁটু ব্যথার কারণ

দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ব্যথা করার কারণ হল হাঁটুর বোত, মানে অস্টিওআর্থ্রাইটিস। হাঁটুতে ব্যথা থাকলে হাঁটাচলার সময় যেদি ভেতরে কচ কচ করে তবে সেটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাঁটুতে বাতের কারণে হয়ে থাকে। হাঁটুর বাত হল অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এই অস্টিওআর্থ্রাইটিস আমাদের শরীরের বড় জয়েন্টগুলোতে হয়ে থাকে। এতে জয়েন্টের সন্ধিস্থলের হাড়ের মধ্যে ডিজেনারেটিভ চেঞ্জ দেখা দেয়। আমাদের হাঁটুর সন্ধিস্থলে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ থাকে। দুটো হাড়ের ঘষা লেগে হাঁটুর ক্ষয় আরম্ভ হয়। আর এই ঘষা থেকেই ব্যথার উৎপত্তি।

হাঁটুর ক্ষয়ের কারণ কী

বর্তমানে আমাদের জীভনে অনেক অনিয়ম এই ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। আবার হাঁটুতে আঘাত লাগা থেক্রে হাঁটুর ক্ষয় হয়।

  • অতিরিক্ত সিঁড়ি ভাঙা অর্থাৎ বারে বারে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা।
  • অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করা।
  • অনেকক্ষণ হাঁটু মুড়ে বসে থাকা অর্থাৎ অনেকক্ষণ হাঁটু ভেঙে বসে কোনো কাজ করা।
  • রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস থেকে ডিজেনারেটিভ চেঞ্জের ফলে হাঁটুর ক্ষয় আরম্ভ হয়।
  • খোলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বারে বারে হাঁটুতে আঘাত লাগার ফলেও হাঁটুর সমস্যা দেখা দেয়।
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিগামেন্ট বা কার্টিলেজের আঘাত থেকেও হাঁটুর সমস্যা শুরু হয়।

রোগ প্রতিরোধ

হাঁটু সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গেলে প্রথমেই আমাদের কিছু কু-অভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার। যেমন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষেত্রে কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু বসে নেওয়া খুব দরকার। মহিলাদের দাঁড়িয়ে রান্না করার ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে বসে নেওয়া উচিত।

যতটা সম্ভব সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কম করা যায় সেটা দেখা দরকার। হাঁটু মুড়ে বসে কাজ করা যাদের অভ্যাস অর্থাৎ যাদের হাঁটু মুড়ে বসে কাজ করতে হয়, তারা কাজের ফাঁকে পা সোজা করে বসবেন বা একটু হেঁটে নেবেন। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাওয়া-দাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। যাতে ওজন বাড়তে না পারে।

মেঝেতে না বসে উঁচু টুলে বসা দরকার এবং রান্না করা, পুজো করা, ইত্যাদি কাজ উঁচু জায়গায় বসেই করা উচিত। কমোডের ব্যবহারে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।

চিকিৎসা

হাঁটু ব্যথার ক্ষেত্রে গরম বা বরফ দুটো জিনিস দিয়েই সেঁক দেওয়া চলে। তবে হাঁটু যদি ফোলা এবং গরম থাকে সেক্ষেত্রে গরম না দিয়ে বরফ সেঁক দেওয়া উচিত। অন্যথায় গরম সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

হাঁটুর ব্যায়াম বলতে কোয়াড্রেসিপ ড্রিল, যা ব্যথায় খুব উপকার দেয়। অর্থাৎ দু’টো পা সোজা করে বসে হাঁটু শক্ত করে রেখে দশ গোনা তারপর ছেড়ে দেওয়া—এইভাবে দশ মিনিট করে দিনে দু’বার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

তবে নিয়ম মানা বা দেহের ওজন কম না করতে পারলে হাঁটুর ব্যথা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না। এছাড়াও ফিজিওথাপির মাধ্যমেও হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তি মেলে। যেমন আলট্রাসোনিক থেরাপি, এস.ডব্লু.ডি, এফ.এস, ওয়াক্স বাথ ইত্যাদি ব্যথা উপশমের ক্ষেত্রে ভালো কাজ দেয়।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

0 Comments

Leave a Comment