হাইপ্রেসারে হাইসুগার থাকলেই হাইরিস্ক

466 Views 0 Comment
হাইপ্রেসারে হাইসুগার থাকলেই হাইরিস্ক

‘ডায়াবেটিস’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি নেই—এমন মানুষটি বোধ হয় এখন তামাম দুনিয়াতে কেউ নেই। কিংবা আরও এক ধাপ এগিয়ে বুদ্ধদেবের কাহিনী অনুকরণ করে বলা যায়, এমন কোনও পরিবার নেই (পিতৃকুল কিংবা মাতৃকূল) যেখানে ডায়াবেটিস নেই।

লেখার শুরুতেই একটি জরুরি তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি তা হল সুগার আমাদের শরীরের তেল। অর্থাৎ শরীরের জ্বালানি । তাই প্রয়োজনীয় সুগার ছাড়া শরীরও অচল। সুগারের এই নির্দিষ্ট সীমা রক্ষা করার জন্য বডি মেকানিজম আছে।

উল্লেখ্য, শরীরের ডায়াবেটিস বা সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার দুটো প্রধান কারণ—

  • একদিকে এক ধরনের হরমোন যা সুগারের মাত্রা কম করে দেয়। ওই হরমোনের নাম ইনসুলিন।
  • অন্যদিকে কিছু হরমোন আছে, যা সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সেই সব হরমোনগুলো হল করটিসল, অ্যাড্রিনালিন, গ্রোথ হরমোন এবং গ্লুকাগন।

শরীরে যখন হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখনই ডায়াবেটিস হয়। অর্থাৎ হরমোনের ভারসাম্যতার অভাবই হল ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিস রোগীকে আবার দুটো পর্যায়ে ভাগ করা যায়। ডাক্তারি পরিভাষা অনুযায়ী তা হল টাইপ-ওয়ান এবং টাইপ-টু

আমরা যে সমস্ত ডায়াবেটিস রোগী দেখি তার ১০০ জনের মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ জনই হলেন টাইপ-টু বিভাগের। এদের শরীরে ইনসুলিন হরমোন আছে কিন্তু ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।

শরীর গ্লুকোজ ব্যবহার করতে গেলেসেই গ্লুকোজকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। কল্পনা করা হয়, কোষের গায়ে বন্ধ দরজা আছে, যা খুললে গ্লুকোজ প্রবেশ করতে পারবে, আর সেই বন্ধু দরজা খোলার জন্য চাবিও আছে। কিন্তু ‘কি-হোল’ যদি সমস্যার হয়, তাহলে তার ভেতরে গ্লুকোজ প্রবেশ করতে পারবে না। এখানে চাবি হচ্ছে ইনসুলিন, কি-হোল হল কোষের গায়ের সে ক্ষমতা যার ফলে গ্লুকোজ ভেতরে যেতে পারবে। কিন্তু বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ফলেই গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করতে পারে না।

অন্যদিকে পরিসংখ্যানে টাইপ-ওয়ান-এর চিত্রটা হল ৫ থেকে ১০ ভাগ রোগী। অর্থাৎ এই ধরনের ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেশ কম। এদের শরীরে ইনসুলিন হরমোনটাই আদতে থাকে না। প্যাংক্রিয়াসের বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে। বিটা কোষগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে ইনসুলিন আর তৈরিই হয় না।

শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরও একটি কারণ হল স্টেরয়েড বেশি খাওয়া। এই ধরনের রোগীদের বলে সেকেন্ডরি ডায়াবেটিক।

আবার কোনও কারণে শরীরে যদি পূর্বে উল্লিখিত চারটি হরমোনের মাত্রা খুব বেশি হয় অথবা বাইরে থেকেও যদি কোনও কারণে প্রয়োগ করা হয়, তাহলেও কিন্তু ডায়াবেটিস হতে পারে।

জিন ও পরিবেশ এই দুই-এর সমন্বয় ইনসুলিন রেজিস্টেন্স করে। এর ফলে ডায়াবেটিস খুব বেশি হয়। বলা যেতে পারে, মহামারী রূপে।

এখন প্রশ্ন হল, এই টাইপ-টু ডায়াবেটিক রোগী কেন বেশি করে দেখা যাচ্ছে? উত্তর পেতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। প্রথম কারণ হল আজকের যুগে জীবনযাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন। বলা যেতে পারে পাশ্চাত্য সভ্যতাকে নকল করার ফল হল ডায়াবেটিস রোগকে আমন্ত্রণ জানানো। আধুনিক মানুষ আরাম-বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত। আর এই জীবনেই আছে ভারসাম্যহীন খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস। অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া। রেডমিট খাওয়া। জিভে জল আনা হরেক রকম ফাস্টফুড-আলো-আঁধারি রেস্তোরা। ফল—হাতছানি দেয় ডায়াবেটিস।

সঙ্গে কায়িক শ্রম না করা। ব্যস্ত মানুষর ঘরে হাজির নানা যন্ত্রপাতি। রান্না করা থেকে মশলা বাটা, ঘর পরিষ্কার করা থেকে কাপড়-কাচা সবকিছুর মুশকিল আসান হাজির করেছে আধুনিক টেকনোলজি। আর তারই সাথে গুটি গুটি পায়ে হাজির ডায়াবেটিস।

দৌড়-ঝাঁপ, ব্যায়াম, হাঁটাহাটি প্রায় বন্ধপর্যায়ে। আছে সামর্থ্য অনুযায়ী যানবাহন। কায়িক শ্রম কোথায়? হারিয়ে গেছে সভ্যতার অতলে।

এসব কিছুর মধ্যে এসে হাত মিলিয়েছে মানসিক চাপ। আধুনিক কর্মব্যস্ত জটিল জীবনে, সবাই চায় সাফল্য, সবাই চায় আরও কিছু আরও—। আর না পেলেই মনের মধ্যে বাসা বাঁধছে চাপা টেনশন। কখনো সেই টেনশন পাকাপাকি বসে যাচ্ছে মনে। আর এর অনিবার্য পরিণতিই হচ্ছে ডায়াবেটিস।

টাইপ-টু ডায়াবেটিস রোগীরা এইসব কারণেরই শিকার। সহজেই বলা যেতে পারে এরা যদি জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে পারেস, তাহলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাবেন। কিন্তু সমস্যাটা হল, বলা কিংবা ভাবাটা যত সহজ, তার চেয়ে বেশ কঠিন জীবনযাত্রার ছবিটাকে পাল্টে ফেলা। কেননা, সবাই যে এখন ছুটছে। কর্মব্যস্ত আধুনিক মানুষের সময় কোথায় কায়িক শ্রম করার? আর খাওয়া-দাওয়া কিংবা মানসিক চাপ কমানো সেটাই কি আর ঠিকঠাক করতে পারছে আধুনিক সভ্য মানুষ?

টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিস বেশ ভয়ের ব্যাপার। তাদের জীবনব্যাপী যথেষ্ট সাবধান থাকতে হয়। দেহে ইনসুলিন তৈরি হয় না। বিটা সেল নষ্ট হয়ে গেছে। দেহের অটো ইমিউন সিস্টেমও নষ্ট। রোগ নির্ণয়ের প্রথমদিন থেকেই ইনসুলিন নিতে হয়।

প্রসঙ্গত একটা কথা জেনে রাখা ভালো, ডায়াবেটিস অসুখে আক্রান্ত নারী-পুরুষের পরিসংখ্যানে কোনও তফাৎ নেই। অর্থাৎপুরুষেরাই বেশি ডায়াবেটিসে ভোগেন একথা যেমন ঠিক নয়, তেমনি মেয়েরা টেনশনে বেশি ভোগেন বলে তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি এটাও ঠিক নয়।

এখন প্রশ্ন হল, ডায়াবেটিস কখন ব্যাপক ভয়ের কারণ হয়ে ওঠে।

এই প্রশ্নের চটজলদি উত্তর হল ডায়াবেটিস সব সময়ই ভয়ের। কারণ ডায়াবেটিস থেকে আসতে পারে নানান সমস্যা, নানান জটিলতা। শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলতে এই অসুখের জুড়ি নেই। চোখ, কিডনি, নার্ভ সব কিছুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই হতে পারে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, রেনাল ফেলিওর, ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি এমনকী নার্ভ শুকিয়ে পায়ে গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোক। সাধারণ মানুষের চেয়ে যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা চারগুণ বেশি, আর ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনাও সাধারণ মানুষের তুলনায় তিন থেকে চারগুণ বেশি।

সুগারের মাত্রা খুব বেশি না থাকলে রোগী বুঝতেই পারেন না যে, তিনি অনেকদিন আগে থেকেই এই অসুখে আক্রান্ত। যেহেতু শরীরে তেমন কোনও অসুবিধের সৃষ্টি হয় না। স্বাভাবিক কারণেই রোগ নির্ণয়ও হয় না। ফলে উসর্গ হাজির হওয়ার পরে রোগ নির্ণীত হলে, অনেক সময় তা ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অসুখটির প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে ওঠে না।

আবার অন্যদিকে রোগনির্ণয় হলেও বহু রোগীই থাকেন উদাসীন, অবহেলা ভয়ের সম্ভাবনা। কারণ ভবিষ্যতে যে অনেক জটিলতাই আসতে পারে একথা তারা মাথায় রাখেন না।

আর সবশেষে যাদের শরীরে সুগারের মাত্রা বেশি বেশি, তাদের তো ভয়ের কারণ সর্বদাই রয়েছে যথেষ্টই। কারণ অসাবধানতা থেকে জটিলতা অনিবার্য ভাবে আসবেই। তাহলে সিদ্ধান্তম ডায়াবেটিস মানেই ভয়ের। তা মাত্রা কম বা বেশি যাই হোক না কেন। কিন্তু ভয়ের কারণটাই তো শেষ কথা নয়। তাহলে চিকিৎসা ব্যবস্থা কী করল? ভয়ই কি হবে জীবনের অনুসঙ্গ? এটাই কি শেষ কথা?

উত্তর—না। তাহলে করণীয় কী? আসলে ডায়াবেটিস যদি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাহলে ভয়ের কোনও কারণই থাকে না। শুধু তা নয়, চ্যালেঞ্জা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, ভবিষ্যতে কোনও জটিলতাই দেখা দেবে না।

আসলে ভয়ের কারণটা কী এবং কোথায় জানেন ? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণীত হয় না। উন্নত দেশেও টাইট-টু ডায়াবেটিস অনেক সময় ধরা পড়ে বছর সাতেক বাদে। আর আমাদের দেশে মানুষের ঠিক যে কত বছর পরে ধরা পড়ে তার হিসেব পাওয়া মুশকিল। পরিসংখ্যানে এটাও দেখা গেছে শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ জটিলতা নিয়েই ডাক্তারের দরবারে আসেন।

তাই সবশেষে জানা প্রয়োজন ডায়াবেটিসের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে। তবে প্রতিরোধ ব্যবস্থার আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা যারা ইতিমধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও যাদের ডায়াবেটিস হয়নি সকলেরই কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা জেনে নেওয়া দরকার।

যারা ইতিমধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা হল—

  • প্রথম ও প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলমাত্রা নিয়ন্ত্রিত করা।
  • ব্লাডপ্রেসার কনট্রোল রাখা। অর্থাৎ যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা অবশ্যই শরীরের রক্তচাপ সঠিক মাত্রায় রাখার চেষ্টা করুন ও সর্বোপরি সতর্ক থাকুন।
  • লিপিড প্রোফাইল অর্থাৎ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা যেন সঠিক মাত্রায় থাকে।
  • রক্ত তরল রাখার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ নেওয়া উচিত। যদি কোনও শারীরিক অসুবিধে না থাকে।
  • তামাক সেবন থেকে দূরে থাকুন।

এসমস্ত সতর্কতা ছাড়াও সঙ্গে দরকার নিয়মিত কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো। কারণ এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমেই সচেতন থাকা সম্ভব। প্রথমেই করা উচিত রক্তপরীক্ষা। যা আমরা সবাই জানি খেয়ে ও না খেয়ে
সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করানো।তাছাড়াও Gly.Hb% রক্ত পরীক্ষা করানো। নিয়মিত এই রক্ত পরীক্ষাগুলো করানো জরুরি।

এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের চোখ, কিডনি ও হার্ট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট থাকে। তাই কিডনি খারাপ হচ্ছে কি না, তা জেনে নেওয়ার জন্য ইউরিনের মাইক্রো অ্যালবুমিন পরীক্ষা করানো। সঙ্গে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন এই দুটো রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি।

চোখের জন্য অবশ্যই দরকার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। অনেক ডায়াবেটিস রোগীর এই ব্যাপারটা স্বচ্ছ ধারণা নেই। আসলে তারা ভাবেন, চশা নেওয়াটাই শেষ কথা, তা কিন্তু নয়। চোখের পর্দায় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেটা লক্ষ্য করা অর্থাৎ সহজ কথায় রেটিনা দেখে নেওয়া, ভবিষ্যতে রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত না হন।

হার্টের অসুখের জটিলতা এড়াবার জন্য ই.সি.জি করিয়ে নিন। ডাক্তারবাবুর পরামর্শ অনুযায়ী কমন একটা ইকোকার্ডিওগ্রাফিও। তাহলে বুঝতে পারবেন আপনার হার্টের হাল-হকিকত।

চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এইসব ব্যবস্থাগুলো ঠিকঠাক পালন করলে ভবিষ্যতে কোনও অযাচিত জটিলতার শিকার তারা হবেন না। তা অনেকটাই হলপ করে বলা চলে।

কিন্তু যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন, তাদেরও তো দরকার সতর্ক হওয়া। কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ প্রতিরোধই তো প্রতিহত করার একমাত্র হাতিয়ার। তাই তাদের জন্য করণীয় হল—

  • জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন আনতে হবে। বলা যায়, শতকরা ৫০ ভাগ ডায়াবেটিস এড়ানো যায় শুধুমাত্র জীবনযাত্রার পরিবর্তন করেই। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। যতটা সম্ভব কম ফাস্টফুড, ফ্যাটি ফুড খেতে হবে। নজর রাখতে হবে শরীরে যেন বেশি চর্বি না জমে। বিশেষত চলতি কথায় যাকে আমরা ভুঁড়ি বলি তা যেন বিশেষ আদরে ক্রমশেই বেড়ে না চলে। তাই দরকার নিয়মিত বেশ কিছুটা কায়িক শ্রম করা। সঙ্গে অবশ্যই মানসিক চাপ কমানো। খাওয়ার তালিকা রাখুন সুষম ভারসাম্য যুক্ত। বেশি করে শাক, সবজি, ফল খান। মনকে রাখুন টেনশনমুক্ত। তবে মুখে বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা করে দেখানো হয়তো বেশ কিছুটা কঠিন। তবুও সচেতন থাকুন। মেডিটেশন করুন, ব্যায়াম করুন, ব্যস্তময় জীবনেও খুঁজে নিন সুস্থ, শালীন অবসর তথা বিনোদনের রসদ।
  • আধুনিক চিকিৎসা বলছে, জিন থেরাপি আশা রাখছে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারবে। আর তারই জন্য চলছে প্রচেস্টা।

ডায়াবেটিসের আলোচনার শেষ পর্যায়ে একটা বিষয়ের আলোচনা খুব জরুরি। যেটার ব্যাপারে সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে আসতে পারে সাংঘাতিক বিপদ। তা হল, যে সমস্ত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের হাইপ্রেসার আছে, তাদের বিশেষ সতর্ক থাকতেই হয়। কথায় আছে না, ‘একে রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর’! হ্যাঁ, ঠিক তেমনেই ডায়াবেটিসে রক্ষে নেই, তাতে যদি হাত ধরে হাইপ্রেসার তাহলে সতর্ক না হলে বিপদের সম্ভাবনা কেন, বিপদ আসবেই। এই যুগলবন্দী সম্পর্কে সাবধান না থাকলে চোখ, কিডনি, হার্ট কিংবা ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। যার পরিণতি মারাত্মক। তাই হাইসুগারের সঙ্গে হাইপ্রেসার থাকলেই কিন্তু হাইরিস্ক। তাই সাবধান হতে একদিনের জন্যও ভুলে যাবেন না। কারণ এটাও তো ঠিক, আপনার সাবধানতাই আপনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করবে।


সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

0 Comments

Leave a Comment