হাড়ের ক্ষয়? সামনে ঝুঁকে পড়ছে রোগী

255 Views 0 Comment
হাড়ের ক্ষয়

অ্যাষ্কাইলোসিং স্পন্ডিলাইটিস একটি ক্ষয়কারী প্রদাহযুক্ত রোগ যেখানে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয়। এর ফলে আক্রান্ত জয়েন্টগুলোর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। স্যাক্রোআলিয়াক ও ভার্টিব্রাল জয়েন্টগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। স্যাক্রোইলিয়াক ও ভার্টিব্রাল জয়েন্টের প্যারাভার্টিব্রাল লিগামেন্টগুলোর অসিফিকেশনের জন্য জয়েন্টের নড়াচড়া স্তব্ধ হয়ে যায়।

রোগের কারণ কী

এই রোগের সঠিক কোনো কারণ জানা নেই। তবে এই রোগের প্যাথোলজিক্যাল অবস্থার সাথে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সাদৃশ্য আছে। কিন্তু একে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস মহিলারেই বেশি আক্রান্ত হয় এবং ছোট জয়েন্টগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসে রোজওয়ালার টেস্ট ও লেটেক্স ফিকসেশন টেস্ট পজিটিভ থাকে। কিন্তু এই রোগের ক্ষেত্রে উল্লেখিত টেস্টগুলো নেগেটিভ থাকে। আঘাতজনিত কারণের ইতিহাস থাকতে পারে। পরিবারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাসও থাকতে পারে।

কাদের হয়

সাধারণত কুড়ি থেকে চল্লিশ বছরের পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ৪:১।

রোগটি কীভাবে প্রকাশ পায়

  • ধীরে ধীরে রোগের আক্রমণ ঘটে।
  • ভালো শরীর-স্বাস্থ্য যুক্ত অল্পবয়সী পুরুষেরাই বেশি আক্রান্ত হয়।
  • প্রথমে কোমরে ব্যথা অনুভূত হয় এবং এই ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখনই সতর্ক হওয়া উচিত।
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় ব্যথা অনুভূত হয়।
  • প্রথমে স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্ট আক্রান্ত হয়।

কী কী লক্ষণ পাওয়া যায়

  • এই রোগের প্রধান লক্ষণ ব্যথা, জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাওয়া এবং জয়েন্টগুলোর বিকৃতি।
  • প্রথমে স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্ট আক্রান্ত হয়।
  • ধীরে ধীরে ওপরের দিকে বিভিন্ন জয়েন্ট আক্রান্ত হয়।
  • বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্যাক্রোইলিয়াক, স্প্যইনাল, হিপ ও সোল্ডার জয়েন্ট আক্রান্ত হয়।
  • ধীরে ধীরে স্পাইনাল জয়েন্ট ও অন্যান্য জয়েন্টগুলো শক্ত হয় এবং নড়াচড়া করায় অসুবিধে হয়।
  • স্পাইন ফ্লেকশনের ফলে রোগী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। রোগী সামনের দিকে ঝুঁকে লাঠি নিয়ে চলতে বাধ্য হয়।
  • কষ্টোভার্টিব্রাল জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হওয়ার জন্য বুকের সম্প্রাসারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং ফুসফুসে এয়ার যথাযথ প্রবেশ না করার জন্য শরীর অক্সিজনের অভাব ঘটে।
  • নার্ভরুট কমপ্রেশনের ফলে প্যারেসথেসিয়া, পেটের ওপরে ও বুকের চারদিকে ব্যথা অনুভব হয়।
  • এই রোগ মৃত্যু আনে না ঠিকই কিন্তু যথেষ্ট বেদনায়ক।
  • বছরের পর বছর রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
  • এই রোগের সাথে আলসারেটিভ কোলাইটিস অথবা ক্রনস ডিজিজ প্রায়ই সংযুক্ত থাকে।

অন্যান্য লক্ষণ

  • আর্থ্রাইটিস, ইউরেথ্রাইটিস।
  • গোড়ালি, সিমফাইসিস পিউবিস, গ্রেটার ট্রোকন্টার ইলিয়াক ক্রেষ্ট-এ ব্যথা অনুভব হয়।
  • খুক কম ক্ষেত্রে ছোট ছোট জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয়।

সাধারণ লক্ষণ

ক্ষুধামান্দ্যতা, অল্প জ্বর, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া।

জটিলতা

লিগামেন্টের ক্যালসিফিকেশন ও অসিফিকেশনের জন্য স্যাক্রোইলিয়াক ও স্পাইণাল জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যায়। একে ব্যাম্বুস্পাইন বলা হয়।

ইনভেস্টিরগেশন

  • আক্রান্ত জয়েন্টের এক্স-রে।
  • রক্ত পরীক্ষা।
  • হিস্টোকমপ্যাটিবিলিটি অ্যান্টিজেন এইচ.এল.এ.বি-২৭ পাওয়া যায় এই রোগে আক্রান্ত ৯০% রোগীর ক্ষেত্রে। এই অ্যান্টিজেনটি রোগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিতে এই রোগের ভালো চিকিৎসা আছে। যন্ত্রণা ও আনুসঙ্গিক কষ্ট কমানোর জন্য আমরা রোগীর সমস্ত লক্ষণগুলো পুঙ্খনুপুঙ্খ বিচার করে ওষুধ দিয়ে থাকি। সঠিখভাবে ওষুধ প্রয়োগ করলে কোনোরকম ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অন্যান্য প্যাথিতে যন্ত্রণা কমানোর জন্য ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রোগীর কিডনি, হার্ট ও স্টম্যাকেরর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এই সমস্ত সমস্যা হয় না। রোগী প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসিত হলে সম্পূর্ণ সারানো সম্ভব হয়। কিন্তু যখন সমস্ত জয়েন্টগুলো বিকৃত অবস্থায় চলে যায়, তখন পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না। তবে কষ্ট ও ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

0 Comments

Leave a Comment